প্রতিবছর ৪ অক্টোবর পালিত বিশ্ব প্রাণী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য "See the World Through Their Eyes", অর্থাৎ ওদের চোখে পৃথিবীকে দেখো। এ উপলক্ষে ঢাকা পোস্টে লিখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশীষ দত্ত। তাঁর প্রশ্ন, সুন্দরবনের বাঘ বা গারো পাহাড় ও চট্টগ্রামের হাতির চলাচলের পথ কেটে সড়ক, বিদ্যুতের লাইন, বসতি বা ধানখেত হলে তাদের চোখে পৃথিবীটা কেমন দেখায়। লেখায় প্রকাশিত মত লেখকের নিজের।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলার কৃষিজীবন, দুধ-ডিম-মাংসের পুষ্টি আর গ্রামীণ অর্থনীতির বড় অংশ এখনো গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ওপর নির্ভরশীল। মৌমাছি ও প্রজাপতির পরাগায়নে ফসল ফলে, শকুন ও শিয়ালের মতো প্রাণী মৃতদেহ খেয়ে রোগের বিস্তার কমায়, কেঁচো মাটির উর্বরতা বাড়ায়, আর সুন্দরবন উপকূলকে ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করে।
তিনি আইইউসিএনের বৈশ্বিক লাল তালিকার হিসাব দিয়েছেন: মূল্যায়িত ১,৭৫,৯০৯ প্রজাতির ৪৯,৫০৫টি, অর্থাৎ প্রায় ২৮ শতাংশ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। ২০১৫ সালে আইইউসিএন বাংলাদেশ ও বন বিভাগের রেড লিস্টে মূল্যায়িত ১,৬১৯ প্রজাতির ৩৯০টি ঝুঁকিতে ছিল, এর ৫৬টি মহাবিপন্ন, ১৮১টি বিপন্ন ও ১৫৩টি সংকটাপন্ন। ৩১টি প্রজাতি দেশ থেকে বিলুপ্ত, যার ১১টি স্তন্যপায়ী, ১৯টি পাখি ও একটি সরীসৃপ।
চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্ক নিয়ে লেখকের যুক্তি, কতগুলো প্রাণী আছে তার পাশাপাশি তারা কেমন আছে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণী দিবস কেবল বাঘ বা হাতির নয়; গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, ঘোড়া, কুকুর-বিড়ালের কল্যাণও এর অংশ। গবাদিপশুর অমানবিক পরিবহন, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুষ্টি এবং পথের প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার কথা বলে তিনি "ওয়ান হেলথ" ধারণা মনে করিয়ে দেন: মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য আলাদা নয়।
নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, প্রতিটি সড়ক, বাঁধ, বিদ্যুৎ প্রকল্প বা নতুন বসতির পরিকল্পনায় কি জিজ্ঞেস করা হয়, এটি কোন প্রাণীর ঘর কেড়ে নেবে? পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণে প্রাণীর দৃষ্টিকোণ কতটা বিবেচনা পায়? তাঁর মতে, পৃথিবী আমাদের একার নয়; আমরা অগণিত প্রাণের সঙ্গে ভাগ করা এই গ্রহের সহ-অধিবাসী মাত্র।
লেখাটি ঢাকা পোস্টের মতামত বিভাগের।
ছবি: Koushik Roy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ঢাকা পোস্ট





মন্তব্য
(০)