বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিবেদনগুলো পড়ে নিজেদের ব্যর্থ মনে হয়েছে, বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক মতামতে লিখেছেন ইকরাম কবীর। নদীমাতৃক দেশের বুলি আওড়াতে আওড়াতে আমরা নদী ভরাট করে ঘর তুলছি, কারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক নদীতে ফেলছি, আর বছরে একবার নদী দিবস পালন করছি, এই তাঁর অভিযোগ। লেখায় প্রকাশিত মত লেখকের নিজের।
লেখক সংবাদমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরেছেন: সরকারি হিসাবে দেশে নদী ১,৪১৫টি, অথচ প্রতিবেদন বলছে এর দুই-তৃতীয়াংশের অস্তিত্ব আসলে নেই; অনেক নদী দখল ও দূষণে মরেছে, বাকিগুলো সরু হয়ে খাল, ড্রেন বা চাষের জমি হয়ে গেছে। ২০০৫ সালের সরকারি দলিলে বুড়িগঙ্গার দৈর্ঘ্য ছিল ৪৫ কিলোমিটার, ২০১১ সালের হিসাবে ২৯ কিলোমিটার।
ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যায় ৪২৪টি বর্জ্য নির্গমনমুখ চিহ্নিত হয়েছে, যা দিয়ে দিনে প্রায় ৩৩০ টন তরল ও কঠিন বর্জ্য নদীতে পড়ছে, এর প্রায় ৬০ শতাংশ শিল্পবর্জ্য। বুড়িগঙ্গার পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পাশাপাশি ক্যাডমিয়াম ও পারদ মিলছে, দ্রবীভূত অক্সিজেন এত কম যে অনেক জায়গায় মাছ বাঁচার পরিবেশ নেই। নরসিংদীর হাড়িধোয়া নদীর পানি কালো ও দুর্গন্ধময়, নামলে চুলকানির মতো সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
লেখকের মূল যুক্তি, নদীদূষণ শুধু পরিবেশের নয়, জনস্বাস্থ্যের সমস্যা: দূষিত পানি সেচে ব্যবহৃত হয়ে তার প্রভাব মাটি ও ফসলে পৌঁছাচ্ছে, অর্থাৎ নদীতে ঢালা বিষ খাবারের টেবিলে ফিরে আসছে। রংপুর অঞ্চলে শাখানদীর মুখ বন্ধ করায় নদী মরে যাওয়া এবং কুড়িগ্রামের গিরাই নদের প্রায় ৮০ একরের ৪০ একর ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাওয়ার তথ্যও দিয়েছেন তিনি।
দায় শুধু দখলদারদের নয়, লেখকের মতে: অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, নিয়ম না মানা কারখানা, বালু-পাথর উত্তোলনকারী, নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারী আর নদীতে ময়লা ফেলা সাধারণ মানুষও এর অংশ। নদী রক্ষা কমিশনসহ ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নদীর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সরকারি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সংকট বাড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
লেখাটি বাংলা ট্রিবিউনের মতামত বিভাগের।
ছবি: Sarah.1001022 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)