Skip to content
দা এগ্রো নিউজদা এগ্রো নিউজকৃষি ও কৃষকের সংবাদ
সাবস্ক্রাইব

মঙ্গল গ্রহে কি ওয়াইন উৎপাদন করা হবে

মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি তৈরি এখন আর কল্পকাহিনী নয়, বরং তা সময়ের ব্যাপার। অন্য একটি গ্রহে বসবাসের জন্য পৃথিবীর অনেক আরাম-আয়েশকেই ভুলে যেতে হবে বাসিন্দাদের। যেমন, পৃথিবীর মতো বায়ুমণ

অনলাইন ডেস্ক১৭ জানুয়ারি ২০২০ · ২ মিনিটের পড়া

মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি তৈরি এখন আর কল্পকাহিনী নয়, বরং তা সময়ের ব্যাপার। অন্য একটি গ্রহে বসবাসের জন্য পৃথিবীর অনেক আরাম-আয়েশকেই ভুলে যেতে হবে বাসিন্দাদের। যেমন, পৃথিবীর মতো বায়ুমণ্ডলের ওপর ওজোন স্তর নেই সেখানে, তাই যখন তখন রোদে বের হওয়া যাবে না। তবে পৃথিবীর একটি বিলাসিতা সেখানেও থাকতে পারে, আর তা হলো ওয়াইন।

ইউরোপীয় দেশ জর্জিয়ায় ৮ হাজার বছর ধরে তৈরি হচ্ছে ওয়াইন। সে দেশের গবেষকরা ইতোমধ্যেই মঙ্গল গ্রহে ওয়াইন তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এর প্রথম ধাপ হলো, মঙ্গলে আঙ্গুর চাষ বিষয়ক গবেষণা। জর্জিয়ার এই প্রকল্পের নাম নাইন মিলেনিয়াম। তারা কয়েক ধাপে মঙ্গলে কৃষিকাজের অবকাঠামো তৈরি করবে। পৃথিবীর কোন ধরণের আঙ্গুর মঙ্গলের রুক্ষ পরিবেশেও বেঁচে যাবে, তা বের করার চেষ্টায় আছেন তারা। ২০২৪ সাল নাগাদ মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী বসতি তৈরি হতে পারে। সে সময়ের মাঝেই তারা মঙ্গলে ওয়াইন তৈরির পন্থা আবিষ্কার করে ফেলার আশায় রয়েছেন।

গবেষণার অংশ হিসেবে জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসিতে একটি ‘ভার্টিক্যাল গ্রিনহাউজ’ তৈরি করা হতে পারে এ বছরেই। ছাদ থেকে মেঝে পর্যন্ত ছোট ছোট পাত্রে মাটি ও বীজ রাখা হবে (আঙ্গুর, স্ট্রবেরি ও আরগুলা) এবং তাদেরকে হাইড্রোপোনিক লাইটের নিচে রাখা হবে। মানুষের তেমন কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই এগুলো বাঁচে কিনা, তা দেখা হবে। আগামী কয়েক বছরে তিবলিসির এক গবেষণাগারে মঙ্গলের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করবেন গবেষকরা, আর সেখানে কোন ধরণের আঙ্গুর ভালোভাবে চাষ করা যাবে সেটাও দেখা হবে।

এসব গবেষণার ফল অন্তত ২০২২ সালের আগে পাওয়া যাবে না। তবে গবেষকরা আশা করছেন, মঙ্গল গ্রহের জন্য হোয়াইট ওয়াইন তৈরি করা সম্ভব হবে। কারণ সাদা আঙ্গুরে সহজে ভাইরাস ধরে না, আর মঙ্গল গ্রহের অতিরিক্ত রেডিয়েশনকেও এই আঙ্গুর প্রতিফলিত করতে সক্ষম হবে।

তবে জর্জিয়ার গবেষকরা মঙ্গলে আঙ্গুর চাষ করার উপায়টি বের করে দেবেন শুধু। তা থেকে ওয়াইন তৈরি করার বাকি প্রক্রিয়াটা সেখানে বসতি স্থাপনকারী মানুষদেরই করতে হবে। নাসার গবেষকরা আশা করছেন, তা সম্ভব হবে।

জর্জিয়ার এই গবেষণার আগেও মঙ্গলগ্রহে কৃষিকাজের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) এর মহাকাশচারীরা ইতোমধ্যেই সেখানে সালাদ তৈরির সবজি চাষ করছেন। অন্যদিকে চীনের চ্যাং’ই-৪ ল্যান্ডার চাঁদে আলু ও রকক্রেস নামের একটি উদ্ভিদ নিয়ে গেছে তা বাঁচে কিনা দেখার জন্য।

মহাকাশে অ্যালকোহলের উপস্থিতিও নতুন নয়। বাডওয়েইজার নামের একটি বিয়ার কোম্পানি তিনবার মহাশুন্যে বার্লি বীজ পাঠিয়েছে ‘ফার্স্ট বিয়ার অন মার্স’ হওয়ার সম্ভাবনায়। অন্যদিকে আইএসএসে তিন বছর ধরে রাখা হয়ে কয়েক বোতল স্কচ হুইস্কি। পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পর দেখা যায়, মহাশূন্যে থাকার কারণে পানীয়টির স্বাদ ও গন্ধ পাল্টে গেছে।

ট্যাগ#উৎপাদন#ওয়াইন#মঙ্গল গ্রহ
অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য

()