বিশ্বের শেষ সত্যিকারের বুনো ঘোড়া প্রেজেওয়ালস্কি ঘোড়ার দুটি শাবক জন্ম নিয়েছে কাজাখস্তানের স্তেপ তৃণভূমিতে; ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ২০০ বছরে সেখানে এটিই প্রথম। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) বিবৃতির বরাতে ডাউন টু আর্থ এ খবর দিয়েছে।
টেস ও আমব্রা নামের দুটি মাদি ঘোড়া ২২ ও ৩০ আগস্ট একটি দূরবর্তী অভয়ারণ্যে শাবক জন্ম দেয়। প্রজাতিটিকে বিলুপ্তি থেকে বাঁচানো ও মানুষের দখলে জীববৈচিত্র্য হারানো কাজাখ তৃণভূমিকে আবার বুনো করে তোলার কয়েক দশকের চেষ্টার ফল এটি। "এই চারণভূমির সমাজভিত্তিক সুরক্ষাই শাবকের জন্মের পথ করেছে, যা গত এক দশকের সংরক্ষণের অন্যতম বড় সাফল্য," বলেন ইউএনইপির ইকোসিস্টেম বিভাগের পরিচালক সুসান গার্ডনার।
একসময় মধ্য এশিয়ার প্রান্তরে এই ঘোড়া দলে দলে ঘুরত, কিন্তু শিকার, কৃষির কারণে আবাস হারানো আর গৃহপালিত পশুর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বুনো পরিবেশে এরা শেষ হয়ে যায়; শেষবার দেখা যায় ১৯৬৯ সালে গোবি মরুভূমিতে। ইউরোপের চিড়িয়াখানায় প্রজনন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রজাতিটি টিকে ছিল। ২০২৪ সাল থেকে ইউরোপের চিড়িয়াখানা থেকে ২২টি ঘোড়া আকাশপথে আলিবি পুনঃপ্রবর্তন কেন্দ্রে আনা হয়েছে, যেখানে তারা বরফ খুঁড়ে খাবার খোঁজার মতো দক্ষতা শেখে।
২০০৫ সালে কাজাখস্তান আলতিন দালা সংরক্ষণ উদ্যোগ শুরু করে, যার লক্ষ্য অতিচারণ, অটেকসই চাষ ও জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫ হাজার বর্গকিলোমিটার স্তেপ ও আধা-মরুভূমি পুনরুদ্ধার; জাতিসংঘ একে বিশ্ব পুনরুদ্ধারের ফ্ল্যাগশিপ ঘোষণা করেছে। বড় তৃণভোজী প্রাণী ঘাস নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে দাবানলের ঝুঁকি কমে; খুরে মাটির ওপরের স্তর আলগা হয়, গোবরে মাটিতে পুষ্টি ফেরে। "ভালোভাবে পরিচালিত পশুচারণ বন্যপ্রাণী ও জীবিকা দুটির জন্যই এই ভূদৃশ্যকে সুস্থ রাখতে পারে," বলেন গার্ডনার।
শাবক দুটি আপাতত তাদের দলের সঙ্গে ৫৬ হেক্টরের ঘেরা জায়গায় থাকবে; আগামী বছর নতুন একটি পুরুষ ঘোড়াকে দলগুলো মেনে নিলে মে মাসে তাদের বনে ছাড়া হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে কাজাখস্তানে ৪০টি ঘোড়া রাখার এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের সাহায্য ছাড়া চলতে পারা মুক্ত একটি দল গড়ার লক্ষ্য সংরক্ষণকর্মীদের।
ছবি: Ancalagon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)