খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয় কমালে পুষ্টি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থ বাঁচে এবং বনের ওপর চাপও কমে। ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তম আন্তর্জাতিক খাদ্য ক্ষতি ও অপচয় সচেতনতা দিবসে এফএও ও জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) যৌথ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক QU Dongyu (চু দোংইউ)।
এফএওর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের ১৩.৪ শতাংশ ফসল তোলার পর খুচরা বাজারে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়, আর ভোক্তার জন্য থাকা খাদ্যের ১৯ শতাংশ অপচয় হয় দোকান, খাবার পরিবেশন ও ঘরে। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ১০ শতাংশ আসে খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয় থেকে, আর ভাগাড়ে পচা খাবার থেকে বের হয় মিথেন, একটি শক্তিশালী স্বল্পস্থায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস।
এফএওর হিসাবে প্রায় ১৪০ কোটি হেক্টর জমিতে এমন খাদ্য উৎপাদন হয় যা শেষ পর্যন্ত কেউ খায় না। কৃষিজমির সম্প্রসারণ যেহেতু বিশ্বে বন উজাড়ের প্রধান কারণ, তাই অপচয় কমালে বিদ্যমান জমির ভালো ব্যবহার হবে। "বন রক্ষা করতে হলে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা বদলাতে হবে; কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা বদলাতে হলে খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয় কমাতে হবে; আর অপচয় কমালেই বন সুরক্ষিত থাকবে," বলেন চু।
ফল ও সবজিতে ক্ষতির হার সবচেয়ে বেশি, তাই ক্ষতি কমালে পুষ্টিকর খাবারও বেশি পাওয়া যাবে। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এফএও বলছে, ২০১৫ সালের পর খাদ্যের ক্ষতি কমানোয় বিশ্বের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ১২.৩ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে খুচরা ও ভোক্তা পর্যায়ে মাথাপিছু অপচয় অর্ধেক করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষতি কমানোর কথা, সে লক্ষ্য থেকে বিশ্ব অনেক দূরে।
দিবসটি উপলক্ষে এফএও একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ফুড লস ইনডেক্স মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যাতে ২০২৪ সালের আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক ক্ষতির হিসাব আছে। খাদ্যের ক্ষতি পরিমাপ ও হ্রাস নিয়ে এফএওর কারিগরি প্ল্যাটফর্মে মানচিত্রটি স্থায়ীভাবে থাকবে, যাতে দেশগুলো ক্ষতি মাপতে ও তথ্যভিত্তিক নীতি নিতে পারে।
এ বছরের আয়োজন হয়েছে রোমে এফএওর সদর দপ্তরে, বন বিষয়ক কমিটির ২৮তম অধিবেশন ও বিশ্ব বন সপ্তাহের মধ্যে; অনুষ্ঠানে ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেনের ভিডিও বার্তাও প্রচার করা হয়।
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)