ধান, গম ও ভুট্টা যেন শিম জাতীয় ফসলের মতো মাটির ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রোজেন পায়, সে লক্ষ্যে জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির বাণিজ্যিক লাইসেন্স নিয়েছে বায়ার (Bayer)। প্রযুক্তিটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস থেকে। বায়ারের দাবি, এতে একসময় দানাফসলের রাসায়নিক সারনির্ভরতা কমতে পারে।
বিশ্বের দৈনিক ক্যালরির প্রায় অর্ধেক জোগায় ধান, গম ও ভুট্টা, কিন্তু এরা বাতাসের নাইট্রোজেন নিজে কাজে লাগাতে পারে না। প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় ডেভিসের বিজ্ঞানীরা সিআরআইএসপিআর দিয়ে গমের শিকড় থেকে এপিজেনিন নামের যৌগ বেশি নিঃসরণ করান, যা এই ব্যাকটেরিয়াকে আকৃষ্ট করেছে।
এখন পর্যন্ত এটি শুধু কাচঘরের গমে দেখা গেছে। পরের ধাপ মাঠ পরীক্ষা, আর বায়ার আগামী দশকের আগে কোনো পণ্য আশা করছে না। প্রতিষ্ঠানটির জনসম্পর্ক ও টেকসই উন্নয়ন প্রধান মাথিয়াস বার্নিঙ্গার (Matthias Berninger) একে কৃষিবিজ্ঞানের অন্যতম বড় লক্ষ্য বললেও মেনে নিয়েছেন, এটি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশামতো কাজ না-ও করতে পারে।
একই লক্ষ্যে আরেকটি পথেও হাঁটছে বায়ার। অক্টোবরে তারা স্ট্যানফোর্ড থেকে জন্ম নেওয়া সুইচ বায়োওয়ার্কসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যারা ফসল না বদলে শিকড়ের আশপাশে থাকা অণুজীব নিয়ে কাজ করে।
সারের বাজার এখন চাপে। ইউরিয়ার বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের, আর ইরানকে ঘিরে সংঘাতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম অনেক বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো ইউরিয়া আমদানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ রাশিয়া থেকে নেয়। জিন সম্পাদিত উদ্ভিদের কিছু বিধিনিষেধ শিথিলের কাঠামোতে এ বছর ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা সমর্থনও দিয়েছেন।
ছবি: Dehaan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Global Agriculture



মন্তব্য
(০)