মানুষ দূর নক্ষত্রে বুদ্ধিমান প্রাণের সংকেত খুঁজছে, অথচ সেই বুদ্ধিবৃত্তিক অস্তিত্বের এক রূপ শতাব্দীর পর শতাব্দী আমাদের সাগরের নিচেই রয়েছে, এমনটাই লিখেছেন বিজ্ঞানবক্তা ও মহাবৃত্তের সম্পাদক আসিফ। আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত কলামে তিনি তিমির ভাষা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা আর সমুদ্রে মানুষের তৈরি শব্দদূষণের কথা তুলে ধরেছেন।
লেখক জানাচ্ছেন, প্রজেক্ট সেটি (Project CETI) ডমিনিকার উপকূলে স্পার্ম তিমির শব্দ বিশ্লেষণ করে দেখেছে, তিমির ক্লিক বা ‘কোডা’তে নির্দিষ্ট ছন্দ, গতি ও মাত্রার বিন্যাস আছে। ইউসি বার্কলের ভাষাবিজ্ঞানীদের গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, তিমিরা শ্রোতাভেদে সংকেতের ধরন বদলায়, আর ছানারা জন্মের পর অনুকরণ করে, ভুল করে ধীরে ধীরে নিজেদের গোত্রের পরিচয়সূচক কোডা শেখে।
উনিশ শতকের তিমিশিকারি জাহাজের দিনলিপি বিশ্লেষণের কথা টেনে কলামে বলা হয়েছে, নতুন সাগরে জাহাজ পৌঁছানোর আড়াই বছরের মাথায় তিমি শিকারের হার ৫৮ শতাংশ কমে যেত; লেখকের ব্যাখ্যা, বেঁচে যাওয়া তিমিরা বিপদের খবর অন্যদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।
আজকের দিনে বাণিজ্যিক জাহাজের প্রপেলার, সামরিক সোনারের উচ্চশক্তির শব্দ আর ডায়নামাইট বিস্ফোরণ সমুদ্রকে শব্দের কারাগারে পরিণত করেছে বলে মনে করেন আসিফ। শব্দ দিয়েই যারা পথ চেনে, সেই তিমিদের জন্য এই কোলাহল পথ হারানো, দলছুট হওয়া ও অকালমৃত্যুর কারণ হয়ে উঠছে।
আশার দিক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিউজিল্যান্ডের মাওরি ও কুক দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসী নেতাদের চুক্তিতে তিমিকে আইনি ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৭ সালে ভয়েজার মহাকাশযানের ‘গোল্ডেন রেকর্ডে’ কার্ল সাগান হ্যাম্পব্যাক তিমির গান রেখেছিলেন, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়ে লেখক প্রশ্ন রেখেছেন, মানুষ কি সেই সুর শোনার মতো সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পেরেছে। লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Michelle Reback / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)