চলতি আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে আগাম ধান কাটা শুরু হতেই আবার সেই পুরোনো প্রশ্ন সামনে এসেছে: খরচ যখন বাড়ছে, কৃষকের ন্যায্যমূল্য কোথায়? জাগো নিউজের কৃষি ও প্রকৃতি পাতায় প্রকাশিত এক কলামে প্রদীপ রায় জিতু এ প্রশ্ন তুলেছেন। লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখক উদাহরণ দিয়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর: সেখানে আগাম আমনের দাম মণপ্রতি ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায় নেমেছে, অথচ কৃষকেরা বলছেন সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমের খরচ মিলিয়ে বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। উপজেলায় এবার ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টরে আমনের লক্ষ্য, যার ১ হাজার ৬৫০ হেক্টরে আগাম জাত; ৯০ থেকে ১১০ দিনে পাকে বলে একই জমিতে পরে আলু বা ভুট্টা করা যায়। প্রথম ফসলেই খরচ না উঠলে পরের ফসলের বিনিয়োগও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বলে তার যুক্তি।
তার মতে, কৃষির সাফল্য শুধু হেক্টর আর টনের হিসাবে মাপা যথেষ্ট নয়; উৎপাদনের পর কৃষকের হাতে কত টাকা থাকল, সেটিও উন্নয়নের সূচক হওয়া উচিত। ফসল কাটার পরপরই মজুরি, ঋণ আর পরের মৌসুমের বীজ-সারের টাকা জোগাতে কৃষককে দ্রুত বিক্রি করতে হয়, গ্রামে আধুনিক গুদাম, ধান শুকানোর ব্যবস্থা ও সংরক্ষণভিত্তিক স্বল্পসুদের ঋণ কম থাকায় তিনি ধরে রাখতে পারেন না।
ধান ও চালের দামের ব্যবধান নিয়ে লেখক বলেছেন, দুটি সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়, কারণ মিলিং, শুকানো, পরিবহন ও মজুতের খরচ যুক্ত হয়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের অনলাইন বাজারদরে আমন সরু চাল ৭২-৭৫ টাকা, মাঝারি ৫৬-৬০ টাকা ও মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকা কেজি দেখানো হচ্ছে; কৃষক, সংগ্রাহক, আড়ত, মিল ও ভোক্তা, প্রতিটি স্তরে দাম কীভাবে বাড়ছে তার নিয়মিত বিশ্লেষণ দরকার বলে তিনি মনে করেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২৩ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৩ টন, যার মধ্যে চাল ২০ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৮ টন ও গম ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৩ টন। লেখকের যুক্তি, মজুত ভালো থাকলেই কৃষক ন্যায্য দাম পাবেন এমন নয়; সংগ্রহমূল্য ঘোষণার চেয়ে জরুরি হলো সংগ্রহ কখন শুরু হচ্ছে, প্রকৃত কৃষক কতটা সহজে বিক্রি করতে পারছেন আর কত দ্রুত টাকা পাচ্ছেন।
মধ্যস্বত্বভোগীদের ঢালাওভাবে দায়ী করাকেও তিনি বাস্তবসম্মত মনে করেন না; সমস্যা তৈরি হয় প্রতিযোগিতা কমলে, মূল্যতথ্য না থাকলে বা কোনো স্তরের বাজারক্ষমতা অতিরিক্ত বাড়লে। তার প্রস্তাব: অঞ্চল ও ফসলভিত্তিক উৎপাদন ব্যয়ের নিয়মিত হিসাব, ফসল কাটার আগেই সরকারি সংগ্রহের প্রস্তুতি, ইউনিয়ন-উপজেলায় শুকানো ও গুদামের সুবিধা, সমবায় ও উৎপাদক সংগঠনকে বাজারে যুক্ত করা, আর কৃষকের মোবাইলে সহজ ভাষায় স্থানীয় বাজারদর ও সংগ্রহের তথ্য পৌঁছে দেওয়া।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)