বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদীর গোসাঁইয়ের দহ নিয়ে ৫ অক্টোবর প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ) ড. মো. শরীফুল ইসলাম একটি কলাম লিখেছেন। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, দহটিতে একসময় সারা বছর পানি থাকত, বোয়াল, আইড়, চিতলসহ নানা মাছ মিলত; এখন এর বড় অংশ কচুরিপানায় ঢাকা। লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখকের প্রশ্ন, মৎস্য খাতের অগ্রগতি মাপতে আমরা উৎপাদনের পরিমাণ দেখি, কিন্তু নদী-বিলের কোন মাছ টিকে আছে, কোথায় প্রজনন হচ্ছে, শুষ্ক মৌসুমে তারা কোথায় আশ্রয় পাচ্ছে, তা কতটা দেখি? তিনি এফএওর এশীয় প্লাবনভূমির মৎস্য ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকার উল্লেখ করেছেন, যেখানে গভীর ও স্থায়ী জলাশয়কে শুষ্ক মৌসুমের আশ্রয়স্থল হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি একটি বৈজ্ঞানিক পার্থক্য মনে করিয়ে দিয়েছেন: কোনো দহে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেই তা সব প্রজাতির প্রজননস্থল নয়; সেটি প্রাপ্তবয়স্ক মাছের আশ্রয়, পোনার বিচরণক্ষেত্র বা শুষ্ক মৌসুমে টিকে থাকার জায়গাও হতে পারে। প্রকৃত ভূমিকা জানতে মৌসুমভিত্তিক জরিপ দরকার, কিন্তু ততদিন অবশিষ্ট অংশ রক্ষার কাজ ফেলে রাখার যুক্তি নেই।
করতোয়ার পুরোনো গতিপথ ধরে খননের পরিকল্পনায় শুরু থেকেই মাছের প্রয়োজন যুক্ত করার প্রস্তাব তার। পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথ প্রাথমিক মূল্যায়ন করুক, প্রয়োজনে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ যুক্ত হোন; খননে কিছু গভীর অংশ রাখা, নদীর সঙ্গে সংযোগ এবং খননের মাটি যেন আবার সংযোগপথ বন্ধ না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি এফএওর নথিতে থাকা টাঙ্গাইলের সিনহারাগী বিল ও ধলেশ্বরীর সংযোগখাল খননের কথা বলেছেন।
পোনা ছাড়ার আগে পানির স্থায়িত্ব, গুণমান, প্রাকৃতিক খাদ্য ও বিদ্যমান মাছের অবস্থা যাচাই করা উচিত বলে লেখকের মত; কচুরিপানা অপসারণ ধারাবাহিক হতে হবে এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনসহ পানির সূচক পরীক্ষা করতে হবে। দহের গভীর অংশে অভয়াশ্রম করা যায় কি না, তা স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা এবং বিধিনিষেধে যাদের আয় কমবে, তাদের সাময়িক সহায়তা ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা রাখার কথাও বলেছেন তিনি।
বৃহত্তর পরিসরে তার প্রস্তাব, জেলা পর্যায়ে নদীর গভীর দহ, স্থায়ী বিল ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগখালের তালিকা করে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা চিহ্নিত করা, যাতে উন্নয়ন ও খনন পরিকল্পনায় মাছের আবাসের তথ্য কাজে লাগে। খননের পর কত ঘনমিটার মাটি সরল তার পাশাপাশি দেখতে হবে শুষ্ক মৌসুমে আশ্রয় টিকছে কি না এবং দেশি মাছ ও জেলেদের জীবিকায় উন্নতি হচ্ছে কি না।
ছবি: P.K.Niyogi / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)