সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৭৯%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মেঘনায় ইলিশ ধরায় হাইমচরে দুই জেলের কারাদণ্ড

চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর দুই জেলেকে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মেঘনায় ইলিশ ধরায় হাইমচরে দুই জেলের কারাদণ্ড
মৎস্য

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করায় দুই জেলেকে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরুপ মুহুরী এই আদালত পরিচালনা করেন। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য সারা দেশে তখন ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছিল। সেদিন সকালে জাগো নিউজ ২৪ জানায়, হাইমচরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ বি এম আশরাফুল হক দণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডিত দুজন মাওয়া থেকে এসেছিলেন এবং হাইমচরের মাঝির বাজারের কাছে ২০০ সিসির একটি স্পিডবোটে করে ইলিশ ধরছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে অভিযানে নামা দল বোটটিকে ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে এবং স্পিডবোটটি জব্দ করে। বোট থেকে প্রায় ১,০০০ মিটার কারেন্ট জালও জব্দ করা হয়। কারেন্ট জাল হলো মনোফিলামেন্ট নাইলনের সূক্ষ্ম জাল, ২০০২ সালের সংশোধনী থেকে বাংলাদেশে যার উৎপাদন, বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। জব্দ করা জাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। মূল প্রতিবেদনে দণ্ডিত দুই জেলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

রাতের অভিযানে যা ঘটেছিল


সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাগো নিউজকে যে বিবরণ দেন, সে অনুযায়ী জেলেরা মাঝির বাজার সংলগ্ন নদীতে স্পিডবোট থেকে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করছিলেন। রাতে গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান পরিচালনাকারী দল মেঘনায় নামে এবং বোটটিকে ধাওয়া করে। ঘটনাস্থলেই দুজনকে আটক করা হয় এবং ২০০ সিসির স্পিডবোটটি জব্দ করা হয়।

বোটে প্রায় ১,০০০ মিটার কারেন্ট জাল পাওয়া যায়, সেগুলোও জব্দ করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জালটি আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তবে স্পিডবোটটি নষ্ট করা হয়নি; সেটি জব্দ অবস্থায় হাইমচরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার হেফাজতে রাখা হয়।

এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক দুই জেলের প্রত্যেককে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেন। পুরো অভিযানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাইমচর নয়ানী আউটপোস্টের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার সানোয়ার হোসেন ও অন্য সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন। প্রতিবেদনটি পত্রিকার চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি পাঠান; এটি ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর সকাল ১১টা ৪ মিনিটে প্রকাশিত হয়।

বোটটি চাঁদপুরের বাইরে থেকে আসার ঘটনাটি কয়েক দিন আগে স্থানীয় জেলেদের একটি অভিযোগের সঙ্গে মিলে যায়। ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর রাইজিংবিডি জানায়, চাঁদপুরের কয়েকজন জেলে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা নৌকা ও জাল নদীতে ফেলা বন্ধ রাখলেও প্রতিবারই অন্য জেলা থেকে জেলেরা চাঁদপুরের নৌসীমানায় ঢুকে ইলিশ ধরে নিয়ে যায়। একই জেলেদের অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতকারী শিশুদের নদীতে নামিয়ে ইলিশ ধরায়। এগুলো রাইজিংবিডিকে দেওয়া জেলেদের নিজেদের অভিযোগ; পত্রিকাটি এ বিষয়ে কোনো পক্ষের জবাব প্রকাশ করেনি।

হাইমচর, চাঁদপুর ও নদীতে টহলের বাহিনী


হাইমচর চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলার একটি। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী উপজেলাটির আয়তন ১৩৪.১৬ বর্গকিলোমিটার; এর অবস্থান ২৩°০০' থেকে ২৩°১০' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩২' থেকে ৯০°৪২' পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। এর উত্তরে চাঁদপুর সদর ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে হিজলা উপজেলা, পূর্বে রায়পুর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে গোসাইরহাট উপজেলা। উপজেলার প্রধান নদী মেঘনা।

হাইমচর থানা গঠিত হয় ১৯৭৬ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৪ সালে। এখানে ছয়টি ইউনিয়ন, যার মধ্যে চরভৈরবী, নীলকমল ও হাইমচর রয়েছে; ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ১,০৯,৫৭৫ জন। ৬৪.৩৭ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। উপজেলার প্রধান রপ্তানিপণ্যের তালিকায় পাট, পান, পেঁয়াজ, রসুন, নারকেল ও সুপারির সঙ্গে মাছও আছে। উপজেলার ভেতর দিয়ে ৬০ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে, আর উল্লেখযোগ্য হাটবাজারের মধ্যে আছে চরভৈরবী, হাইমচর ও কাটাখালী বাজার।

হাইমচর যে জেলার অংশ, সেই চাঁদপুরের আয়তন ১,৬৪৫.৩২ বর্গকিলোমিটার, চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। জেলার প্রধান নদী মেঘনা, ডাকাতিয়া ও গোমতী; মেঘনা জেলার পশ্চিম সীমানার একটি অংশ। চাঁদপুর মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৮ সালে, জেলা হয় ১৯৮৪ সালে। ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর রাইজিংবিডিকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, ইলিশের জন্যই চাঁদপুর সারা দেশে পরিচিত।

চাঁদপুরের কাছে হাইমচরের একটি নদীচর, ভাটার সময় যখন শাখা নদীতে পানি নেই। ছবি: ফা নোয়া / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
চাঁদপুরের কাছে হাইমচরের একটি নদীচর, ভাটার সময় যখন শাখা নদীতে পানি নেই। ছবি: ফা নোয়া / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

অভিযানে অংশ নেওয়া কোস্ট গার্ড স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বাহিনী। বাহিনীর ওয়েবসাইটে ঢাকা জোনের পাশাপাশি আরও তিনটি জোনের উল্লেখ আছে: চট্টগ্রামে পূর্ব জোন, মোংলায় পশ্চিম জোন এবং ভোলায় দক্ষিণ জোন। ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে সরকার জানায়, এবারের অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী অংশ নেবে।

২০২৫ সালের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান


দুই জেলে যে নিষেধাজ্ঞা ভেঙেছিলেন, তা চলেছে ২০২৫ সালের ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর, বাংলা পঞ্জিকায় ১৪৩২ সালের ১৯ আশ্বিন থেকে ৯ কার্তিক। ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, সোমবার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আশ্বিনী পূর্ণিমার আগের ৪ দিন ও অমাবস্যার পরের ৩ দিনসহ এই ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ও মৎস্যজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে, এবং সর্বোচ্চ প্রজনন নিশ্চিত করতে পূর্ণিমা ও অমাবস্যা দুটোই এর মধ্যে রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, অভিযানের সময় জলসীমার বাইরে থেকে মাছ ধরার ট্রলারের অনুপ্রবেশ বন্ধ রাখা হবে, নদীতে ড্রেজিং সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে এবং সমুদ্র, উপকূল ও মোহনাতেও একইভাবে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম আলো জানায়, মৎস্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী এই সময়ে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয়।

জেলে পরিবারের আয়ের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার জানায়, ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি পরিবারকে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) সহায়তা দেওয়া হবে। পরিবারপ্রতি বরাদ্দ ২৫ কেজি চাল, সব মিলিয়ে ১৫ হাজার ৫০৩ মেট্রিক টন।

একই সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের অভিযানের ফলও জানানো হয়: ৫৪.৮৬ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ, ৬১২ লাখ মিটার জাল ধ্বংস এবং ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়। মন্ত্রণালয় জানায়, গবেষণা অনুযায়ী ওই নিষেধাজ্ঞার ফলে ৫২.৫ শতাংশ মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছিল, যা থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি জাটকা, অর্থাৎ ইলিশের পোনা, উৎপন্ন হয়।

২০২৫ সালের নিষেধাজ্ঞা আগের বছরের চেয়ে আগে শুরু হয়। প্রথম আলো জানায়, ২০২৪ সালে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছিল ১২ অক্টোবর; প্রজননচক্রের বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে এবার তা এগিয়ে আনা হয়েছে, আর জেলেরা সময়সীমা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে বলেন, প্রতি বছর আশ্বিন মাসের অমাবস্যা ও পূর্ণিমার মধ্যবর্তী সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যখন মা ইলিশ ডিম ছাড়তে সাগর থেকে নদীতে আসে; তখন এগুলো ধরা হলে ভবিষ্যতের উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে আসবে।

চাঁদপুরে পদ্মা ও মেঘনার নিষিদ্ধ অংশ


২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর রাইজিংবিডি জানায়, চাঁদপুরে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল হাইমচরের চরভৈরবী থেকে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনার প্রায় ৭০ কিলোমিটার অংশে। জেলা প্রশাসক বলেন, এই সময়ে ওই এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে এবং কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ দল প্রতিদিন নদীতে টহল দেবে।

চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার পত্রিকাটিকে জানান, আগের বুধবার থেকেই চাঁদপুর সদরের আনন্দবাজার, লালপুর মৎস্যবাজার, আমিরাবাদ ঘাট, চর উমেদ ও রাজরাজেশ্বর এলাকায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগ পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করছে; পর্যায়ক্রমে হাইমচর এবং মতলব উত্তর ও দক্ষিণে প্রচারণা চালানো হবে। তিনি সতর্ক করেন, এরপরও কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, আইন অমান্য করলে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে, এবং জেলেদের জন্য সরকার খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি নিয়েছে। তাঁর ভাষ্যে, চাঁদপুরের ৪৫ হাজার ৬১৫ জেলে পরিবারকে সে বছর ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে, যা আগেরবারের চেয়ে ৫ কেজি বেশি। জেলার এই হিসাব জেলা প্রশাসকের নিজের বক্তব্য; ঢাকায় ঘোষিত জাতীয় বরাদ্দ ছিল পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি। রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলা জেলেরা দ্রুত সরকারি চাল পাওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

চাঁদপুরের এই অংশের সঙ্গে দেশের আইনত ঘোষিত একটি ইলিশ অভয়াশ্রমের এলাকা মিলে যায়। মৎস্য অধিদপ্তরের ২০১১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সংকলিত মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫-এর বিধি ১৩-তে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত নিম্ন মেঘনার ১০০ কিলোমিটার অংশকে ইলিশ অভয়াশ্রম হিসেবে তালিকাভুক্ত করা আছে, যেখানে প্রতি বছর মার্চ থেকে এপ্রিল সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর থেকে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, রামগতির আলেকজান্ডার থেকে ষাটনল পর্যন্ত একই ১০০ কিলোমিটার অংশকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে এবং অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞায়ও সেখানে মাছ ধরা বন্ধ।

বাংলাদেশের মেঘনা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকা, ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ছবি: নুরুন্নবী চৌধুরী (হাসিভ) / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
বাংলাদেশের মেঘনা নদীতে একটি মাছ ধরার নৌকা, ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ছবি: নুরুন্নবী চৌধুরী (হাসিভ) / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে যা ছিল


এই নিষেধাজ্ঞার ভিত্তি মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ (দ্য প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ অ্যাক্ট, ১৯৫০; ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ আইন নং ১৮) এবং এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা। আইনের ৩ ধারা সরকারকে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়, যার মধ্যে আছে নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ মারা বা ধরা নিষিদ্ধ থাকার মৌসুম নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট জলাশয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা। ৪ ধারায় সরকার নির্দিষ্ট আকারের নিচের মাছ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধরা, বহন, পরিবহন, বিক্রির জন্য উপস্থাপন, প্রদর্শন বা দখলে রাখা নিষিদ্ধ করতে পারে।

ইলিশ সুরক্ষার বিধানগুলো ১৯৮৫ সালের বিধিমালার ১৩ বিধিতে। মৎস্য অধিদপ্তরের ২০১১ সালের সংকলনে উপবিধি (১)(ক) তালিকাভুক্ত ইলিশ অভয়াশ্রমে নির্ধারিত মাসে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে, আর উপবিধি (১)(খ) প্রধান প্রজনন মৌসুমে সারা দেশে ইলিশ ধরা এবং বহন, পরিবহন, বিক্রির জন্য উপস্থাপন, বিক্রি, প্রদর্শন বা দখলে রাখা নিষিদ্ধ করে। ২০১১ সালের ওই পাঠে প্রধান প্রজনন মৌসুম ছিল আশ্বিনের প্রথম পূর্ণিমা ঘিরে ১১ দিন। উপবিধি (২) অনুযায়ী বিধি ভেঙে ধরা মাছ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা যায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রথম আলো জানায়, ২০০৮ সাল থেকে ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতো; পরে গবেষণায় দেখা যায় ইলিশ পূর্ণিমা ও অমাবস্যা দুই সময়েই ডিম ছাড়ে, তাই বর্তমান ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর যে দণ্ডের বিধান কার্যকর ছিল, তা মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০২ দ্বারা প্রতিস্থাপিত ৫ ধারার। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের বাংলাদেশ আইন সংকলন ওয়েবসাইটের সরকারি পাঠ ও এর সংশোধনী টীকা অনুযায়ী সেগুলো ছিল:

  • ৩ ধারার অধীনে প্রণীত কোনো বিধি বা ৪ ধারার কোনো নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ: অন্যূন এক বছর ও অনধিক দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড (ধারা ৫(১))।
  • কারেন্ট জাল তৈরি, বানানো, আমদানি, বাজারজাত বা মজুদ: অন্যূন তিন বছর ও অনধিক পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অনধিক ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড (ধারা ৫(২)(ক))।
  • কারেন্ট জাল বহন, পরিবহন, মালিকানা, দখলে রাখা বা ব্যবহার: অন্যূন এক বছর ও অনধিক তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড (ধারা ৫(২)(খ))।

৫ক ধারা অনুযায়ী, এই আইন বা এর বিধির অধীনে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে আদালত অপরাধে ব্যবহৃত বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা যেকোনো জিনিস বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেবেন। ৬ ধারা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিধি বা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারী এমন ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়, যার নাম-ঠিকানা অজানা বা সন্দেহজনক। ৭ ধারা অনুযায়ী এই আইনের অপরাধ আমলযোগ্য; মৎস্য কর্মকর্তা বা অন্যূন সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ বা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত তা আমলে নেন; কেবল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এর বিচার করতে পারেন, এবং অধিকাংশ অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার করা যায়। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে ভ্রাম্যমাণ আদালত কোন ধারায় দণ্ড দিয়েছেন, তা উল্লেখ করা হয়নি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত যেভাবে দণ্ড দেন


দণ্ডটি দেওয়া হয় মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন, ৬ অক্টোবর ২০০৯) অনুযায়ী। আইনের ৫ ধারা সরকারকে, এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিজ জেলায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে যেকোনো এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিত আদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার অধিকার দেয়। হাইমচরে আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), আর জব্দ করা জাল পোড়ানো হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে।

৬(১) ধারা অনুযায়ী, আইনের তফসিলে বর্ণিত কোনো আইনের অপরাধ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে তা আমলে নিয়ে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন। ৭ ধারায় পদ্ধতি বলা আছে: ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত লিখিত অভিযোগ গঠন করে তা অভিযুক্তকে পড়ে ও ব্যাখ্যা করে শোনান এবং অভিযুক্ত তা স্বীকার করেন কি না জানতে চান। স্বীকার করলে স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করে তাতে অভিযুক্তের এবং উপস্থিত দুজন সাক্ষীর স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়া হয়, তারপর ম্যাজিস্ট্রেট নিজের বিবেচনায় উপযুক্ত দণ্ড দিয়ে লিখিত ও স্বাক্ষরিত আদেশ দেন। অভিযোগ অস্বীকার করে দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; সন্তোষজনক না হলে অভিযোগটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পাঠানো হয়।

৮ ধারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডের সীমা বেঁধে দেয়: সংশ্লিষ্ট আইনে যে দণ্ডই থাকুক, এই আইনে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যায় না; তবে সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে যেকোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া যায়। ১২ ধারা ম্যাজিস্ট্রেটকে তল্লাশি, জব্দ এবং প্রয়োজনে জব্দ করা বস্তু বিলিবন্দেজের ক্ষমতা দেয়; নিষিদ্ধ জাল ঘটনাস্থলে নষ্ট করার কর্তৃত্ব এখান থেকেই আসে। ১৩ ধারা অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিল করতে পারেন, আর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয় দায়রা জজের কাছে।

কারেন্ট জাল কেন নিষিদ্ধ


১৯৫০ সালের আইনের ২ ধারায় কারেন্ট জালের সংজ্ঞা দেওয়া আছে: বিভিন্ন ফাঁসের মনোফিলামেন্ট সিনথেটিক নাইলন সুতায় তৈরি মাছ ধরার জাল। ২০০২ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশে যুক্ত ৪ক ধারা বলে, কোনো ব্যক্তি কারেন্ট জাল তৈরি, বানানো, আমদানি, বাজারজাত, মজুদ, বহন, পরিবহন, মালিকানায় রাখা, দখলে রাখা বা ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্যদিকে সাধারণ মাছ ধরার জাল বলতে আইনে বোঝানো হয়েছে অন্য ধরনের সুতায় তৈরি বিভিন্ন ফাঁসের জাল, যা প্রচলিতভাবে গাবের ফল, গরানের বাকল ও আলকাতরার মতো উপকরণে রং করা হয়।

২০২৫ সালে মাছ কম পাওয়ার জন্য মৎস্য কর্মকর্তারা যেসব চাপকে দায়ী করেন, সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল তার একটি। সরকারের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত আহরণে মজুদ কমে গেছে; নিয়ম হলো মোট মজুদের ৩০ শতাংশ আহরণ করে ৭০ শতাংশ রেখে দেওয়া, কিন্তু অবৈধ সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ও স্থানীয় ট্রলার দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরায় সব আকারের মাছ মারা পড়ছে, আর বড় মাছের অতিরিক্ত আহরণেও মজুদে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাপিডিয়া জানায়, প্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ প্রচলিতভাবে ধরা হয় স্থির বা ভাসমান ফাঁসজাল, অর্থাৎ চান্দি জাল দিয়ে; বেড়জাল ও সাংলা জালেও কিছু ধরা পড়ে। নদীতে সাধারণত এক বা দুই নৌকার দল এবং সাগরে ১০ থেকে ১৩ মিটারের যন্ত্রচালিত নৌকা বা ট্রলার মাছ ধরে। ইলিশ আহরণ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বাংলাপিডিয়া নির্বিচারে জাটকা ধরা, প্রজনন, খাদ্য ও লালনক্ষেত্র হারানো, অভিপ্রয়াণের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং নদীদূষণের কথা উল্লেখ করেছে।

জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পোড়ানোর আগে চাঁদপুরে স্তূপ করে রাখা, জুন ২০১৯। ছবি: দেলোয়ার হোসেন / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পোড়ানোর আগে চাঁদপুরে স্তূপ করে রাখা, জুন ২০১৯। ছবি: দেলোয়ার হোসেন / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

ইলিশ ও তার প্রজনন মৌসুম


ইলিশ (Tenualosa ilisha) হেরিং গোত্রের, অর্থাৎ ক্লুপিডি পরিবারের মাছ এবং বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় এর দেহ বেশ চাপা, রং ধাতব রুপালি; দৈর্ঘ্য ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে, তবে সাধারণত ধরা পড়া মাছ ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার। বড় একটি ইলিশের ওজন প্রায় আড়াই কেজি। স্ত্রী ইলিশ দ্রুত বাড়ে এবং সাধারণত পুরুষের চেয়ে বড় হয়; মাছটি এক থেকে দুই বছরে প্রজননক্ষম হয়।

ইলিশ অভিপ্রয়াণী মাছ: সাগরে থাকে ও খায়, আর ডিম ছাড়তে নদীর উজানে আসে। ভাসমান ডিম পদ্মা, যমুনা ও মেঘনার উজানে ফোটে; পোনা নদীর খাতে বড় হয়, তারপর সাগরে নেমে যায় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আবার ফেরে। একটি বড় স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। ইলিশ কমবেশি সারা বছর ডিম ছাড়লেও বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি-মার্চে একটি ছোট এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রধান প্রজনন মৌসুম থাকে; এ কারণেই অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডিম ফোটার ছয় থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যে পোনা প্রায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার হয় এবং সাগরমুখী যাত্রা শুরু করে; এই অবস্থায় এদের জাটকা বলা হয়। ইলিশ মূলত প্লাংকটনভোজী; নীলাভ-সবুজ শৈবাল, ডায়াটম, কোপেপড ও রটিফার এর খাদ্য।

২০১৭ সালের আগস্টে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর মৎস্য অধিদপ্তরের আবেদনে ইলিশকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেয়। দ্য ডেইলি স্টার ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট জানায়, ১ জুন জার্নাল প্রকাশের পর দুই মাসের আপত্তির সময় ৩১ জুলাই শেষ হয়, কোনো আপত্তি আসেনি। ওয়ার্ল্ডফিশের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশ একাই উৎপাদন করে। প্রথম আলো ২০২৫ সালের অক্টোবরে জানায়, বাংলাদেশ ২০০৩-০৪ সালে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি শুরু করে, যাতে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ে।

২০২৫ সালের নিষেধাজ্ঞার আগে উৎপাদন ও চাপ


২০২৫ সালের নিষেধাজ্ঞা আসে একটি খারাপ মৌসুমের শেষে। ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম আলো জানায়, দেশে ইলিশ উৎপাদন ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৫ লাখ ৭১ হাজার টন থেকে কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে নেমেছে, আর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৪-২৫ সালে তা আরও কমবে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে আহরণ ছিল ২৯ হাজার ৫১৯ টন, যেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে তা ছিল ৪০ হাজার ২৯১ টন।

পত্রিকাটি জানায়, গবেষকদের মতে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, নদীর স্রোত, গভীরতা, বন্যা, খাদ্যের জোগান ও পানির মান ইলিশের প্রজনন ও আহরণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। মৎস্য অধিদপ্তরের এক জরিপে মেঘনা-তেঁতুলিয়া মোহনা ও সংলগ্ন নদীতে ১৭টি জায়গায় ইলিশের চলাচল বাধাগ্রস্ত পাওয়া গেছে, যার ১৪টি মেঘনাতেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবাধ চলাচলের জন্য প্রায় ৩০ ফুট পানি দরকার, কিন্তু অনেক মোহনায় ভাটার সময় পানি নেমে আসে মাত্র ৮ থেকে ৯ ফুটে। দক্ষিণাঞ্চলের নদীতে পলি ও ডুবোচরে গভীরতা কমেছে, আর শিল্পবর্জ্যে পানি দূষিত হয়েছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক পত্রিকাটিকে বলেন, ইলিশ খুবই সংবেদনশীল প্রজাতি; আবাসস্থল বদলালে এটি অভিপ্রয়াণের পথ বদলে ফেলে। তিনি রামনাবাদ নদীর তীরে এবং পায়রা-বিষখালী-বলেশ্বর মোহনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রজননক্ষেত্রের আশপাশে শিল্পায়নের কারণে নদীদূষণকে ইলিশের গতিপথ বদলের জন্য দায়ী করেন।

দামেও এই ঘাটতির প্রভাব পড়ে। প্রথম আলোর উদ্ধৃত ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে ২০২৫ সালে ইলিশের দাম ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি ছিল। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসাবে প্রতি কেজির দাম ২০১০ সালে ছিল ৪১৭ টাকা, ২০১৯ সালে ৭৮৯ টাকা, আর ২০২৫ সালে তা দাঁড়ায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকায়। এই প্রেক্ষাপটেই চাঁদপুরের নদীতে প্রতিদিনের টহলসহ ২০২৫ সালের অভিযান শুরু হয়, যাতে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে।

ছবি: ফাহাদ ফয়সাল / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, রাইজিংবিডি, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ ও মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ (বাংলাদেশ আইন সংকলন, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ), মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫ (মৎস্য অধিদপ্তরের ২০১১ পর্যন্ত সংকলন), বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

সিংড়ার লাড়কিবাড়ী বিলে বিষ, সামাজিক মাছ চাষে চার লাখ টাকার ক্ষতি

নাটোরের সিংড়ায় চার দশক ধরে সামাজিকভাবে মাছ চাষ হওয়া লাড়কিবাড়ী বিলে রাতে কীটনাশক দেওয়ায় প্রায় চার লাখ টাকার মাছ মরেছে; বিলের দখল নিয়ে বিরোধকে দায়ী করছেন চাষিরা।

সমকাল২ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ডাম্পিং স্টেশন নেই, পৌরসভার বর্জ্য আর পয়োনিষ্কাশনের পানি যাচ্ছে ভৈরবের মেঘনায়

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নদীর তীরে ময়লার স্তূপ, সরাসরি নদীতে পড়ছে পৌরসভার বর্জ্য ও প্লাস্টিক, ভরাট হচ্ছে খাল-বিল; জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে।

দৈনিক বাংলা২ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দুই বছর ধরে কমছে ইলিশ, ৫.৭১ লাখ থেকে ৫ লাখ টনে

দুই দশকে দ্বিগুণের বেশি বাড়ার পর ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন কমেছে; গবেষকেরা দুষছেন দুর্বল বাস্তবায়ন, নদীদূষণ, চরের পরিবর্তন আর অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনকে।

বাংলা ট্রিবিউন২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)