প্রান্তিক খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে বলেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় খরচও কমানো যায়। মাছ ও প্রাণিসম্পদ খাত দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের বড় উৎস। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এ দুই খাতকে আরও রপ্তানিমুখী করার সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন।
মৎস্য খাত নিয়ে তিনি বলেন, মৎস্য কর্মকর্তারা নিয়মিত খামার ঘুরে পরামর্শ দিলে উৎপাদন বাড়বে, বাড়তি ব্যয়ও কমবে। প্রাণিসম্পদ খাতে খামারে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধের তাগিদ দেন তিনি। খামারের পরিচ্ছন্নতা, জীবাণু নিয়ন্ত্রণ, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও মানসম্মত খাদ্য ব্যবহার নিয়ে খামারিদের সচেতন করার কথাও বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, কোরবানির পশুর চাহিদা দেশের উৎপাদনেই মেটানোর সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে, এখন দেশে উৎপাদিত মাংস বিদেশে পাঠানোর সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যে ১৩টি মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের অবকাঠামো উন্নত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্ষুদ্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এতে খামারিরা ঋণ, উৎপাদন উপকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি দুই খাতে আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনটি এগ্রি বার্তা প্রতিবেদকের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রি বার্তা





মন্তব্য
(০)