রোগ থেকে বাছুরকে রক্ষা করতে জন্মের পর কয়েক দিন ধরে শাল দুধ (কলোস্ট্রাম) বা ট্রানজিশন দুধ খাওয়ানোর দিকে ঝুঁকছেন দুগ্ধ খামারিরা। তবে প্রথমবারের খাওয়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট এক্সটেনশনের পশুচিকিৎসক ভিনিসিয়াস বুইয়াত্তে। তাঁর পরামর্শ প্রকাশ করেছে ফার্মস ডটকম।
নবজাতক বাছুরের অন্ত্র দিয়ে মায়ের অ্যান্টিবডি শোষণের ক্ষমতা জন্মের প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত কমে যায় এবং ২৪ ঘণ্টায় কার্যত শেষ হয়। বুইয়াত্তের পরামর্শ, জন্মের প্রথম দুই থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে বাছুরকে তার দেহের ওজনের প্রায় ১০ শতাংশ পরিমাণ ভালো মানের শাল দুধ খাওয়াতে হবে, যার প্রতি মিলিলিটারে অন্তত ৫০ মিলিগ্রাম আইজিজি থাকবে।
বর্ধিত খাওয়ানো মানে প্রথম দিনের পরও গাভির দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ দোহনের দুধ খাওয়ানো। সাধারণ দুধের তুলনায় শাল দুধে প্রোটিন ও চর্বি অনেক বেশি, সঙ্গে থাকে অ্যান্টিবডি, রোগপ্রতিরোধী কোষ, বৃদ্ধির উপাদান ও অলিগোস্যাকারাইড, যা রোগপ্রতিরোধ, অন্ত্রের বিকাশ ও উপকারী অণুজীব গড়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষণার প্রমাণও বাড়ছে। রেনো ও স্টিলের ২০২৪ সালের এক পর্যালোচনায় কয়েক দিন শাল দুধ খাওয়ানো অন্ত্রের বিকাশে উপকারী হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় তিন দিন ট্রানজিশন দুধ পাওয়া বাছুরের ওজন ও অন্ত্রের বিকাশ শুধু দুধের বিকল্প পাওয়া বাছুরের চেয়ে ভালো ছিল; ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় দেখেছে, ১৪ দিন দুধের বিকল্পের সঙ্গে শাল দুধের গুঁড়া পাওয়া বাছুরে ডায়রিয়া ও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কম।
তবে খরচ ও ঝুঁকিও আছে। কয়েকটি গাভির দুধ একসঙ্গে মেশালে রোগ ছড়াতে পারে, তাই সংরক্ষণ, পাস্তুরায়ন, হিমায়ন বা বাণিজ্যিক বিকল্পের দিকে নজর দিতে হয়। বুইয়াত্তে বলেন, বিভিন্ন খামারের জন্য নিশ্চিত সুপারিশ দিতে আরও গবেষণা দরকার।
ছবি: ŠJů / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)