সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৯°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

আবার সবুজে ভরে উঠল মাঠ

বর্ষায় থাকত থইথই পানি। আর শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটার লোকজনের কর্মচাঞ্চল্যে জমজমাট থাকত পুরো এলাকা। রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় তুরাগ নদের উভয় পাশের এই চিত্র এবার কিছুটা বদলে গেছে। বন্ধ হ

বর্ষায় থাকত থইথই পানি। আর শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটার লোকজনের কর্মচাঞ্চল্যে জমজমাট থাকত পুরো এলাকা। রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় তুরাগ নদের উভয় পাশের এই চিত্র এবার কিছুটা বদলে গেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ইটভাটার আশপাশের অব্যবহৃত জমিতে এবার দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। স্থানীয় কৃষকেরা আবাদ করেছেন লাউ, শিম, টমেটো, কপিসহ নানা ধরনের সবজি।

সাভার থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে তুরাগ নদের পাশে আশুলিয়ার পাড়াগ্রাম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এ এলাকার পাশে তুরাগ নদের তীরে ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছিল বেশ কয়েকটি ইটভাটা। অথচ একসময় ওই সব জমিতে সব ধরনের ফসলের আবাদ করতেন এলাকার কৃষকেরা। ইটভাটার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গত বছর ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জোরদার হওয়ার পর এলাকার কৃষকেরা আবার আশার আলো দেখছেন।

পাড়াগ্রামের কৃষক মজিবর রহমানের নিজের জমি না থাকলেও তিনি একসময় অন্যের জমি বন্ধক নিয়ে কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। তবে চাষের জমি ইটভাটা দখল করে নেওয়ার পর তিনি পেশা বদল করেছিলেন। কিন্তু গত এক বছরে কয়েকটি ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবার তিনি চাষাবাদ শুরু করেছেন। তিনি এবার ইটভাটার আশপাশে অব্যবহৃত পাঁচ বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে লাউ, শিম, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করেছেন।

মজিবর রহমান জানালেন, পাঁচ বিঘা জমি তিনি এক বছরের জন্য বন্ধক নিয়েছেন ৩০ হাজার টাকায়। সার, কীটনাশক, বীজ, শ্রমিকের মজুরিসহ চাষ বাবদ তাঁর খরচ হয়েছে আরও প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে দুই বিঘা জমির ধুন্দুল বিক্রি করে পেয়েছেন তিনি ৮০ হাজার টাকা। লাউ, শিম ও টমেটো থেকে আরও প্রায় দুই লাখ টাকা পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

খেত থেকে ফুলকপি তুলছিলেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ইটভাটার পাশে ২৮ শতাংশ জমিতে কপির আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছেন। আরও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার কপি তাঁর খেতে রয়েছে। এরই মধ্যে তিনি ওই জমিতে ধুন্দুলের বীজ বপন করতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ইটভাটার কারণে তাঁদের এলাকায় চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে এলাকার কৃষকেরা আবার চাষাবাদে ঝুঁকবেন।

স্থানীয় আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও পাড়াগ্রামের বাসিন্দা রুহুল মণ্ডল বলেন, তাঁর এলাকায় একসময় ধান, পাট, গম, সরিষাসহ নানা ধরনের সবজির আবাদ হতো। এলাকার অধিকাংশ মানুষের আয়ের উৎস ছিল কৃষি, কিন্তু ২০ বছর আগে একের পর এক ইটভাটা গড়ে ওঠায় সব জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। সরকার ইটভাটা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় এ এলাকায় আবার চাষাবাদের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়া ভাটার আশপাশে সবজির আবাদ শুরু করেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানীর চারপাশের সব অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করা হবে। ইতিমধ্যে আশুলিয়াসহ রাজধানীর চারপাশের বেশ কয়েকটি ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে কৃষকেরা আবার ওই সব জমি কৃষিকাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

সাভারের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ বলেন, ইটভাটার কারণে সাভারে কৃষি উৎপাদন কমে গেছে। ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে কৃষিজমি বাড়বে। ইটভাটার ব্যবহৃত জমি চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে। প্রয়োজনে তাঁদের বিনা মূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আশুলিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি ভাটার আশপাশে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

প্রথম আলোসূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

প্লাস্টিকে ডুবছে নদী: বুড়িগঙ্গার তলদেশে পুরোনো বোতল, মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার বড় অংশ গিয়ে জমছে নদীতে; বুড়িগঙ্গার মাছ ও কাঁকড়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে, অথচ পলিথিন নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের আদেশ কার্যকর হয়নি।

দ্য ডেইলি স্টার২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
গ্যালারি

শরতের ভোরেই কুয়াশা, উত্তরের জেলাগুলোতে ঘন চাদরে ঢাকা মাঠঘাট

শরৎ চলছে, তবু দেশের নানা অঞ্চলে ভোরে কুয়াশা নামছে, উত্তরাঞ্চলে বেশি; পঞ্চগড়, রংপুর, পাবনা, নওগাঁ ও সাজেক থেকে তোলা প্রথম আলোর ছবির গল্প।

প্রথম আলো২ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
বাংলাদেশ

তিস্তা মিয়েন্ডার প্লাবনভূমি (AEZ-3): উঁচু-নিচু জমি, অম্লীয় মাটি আর বহুফসলি কৃষির সম্ভাবনা

দেশের তৃতীয় কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল তিস্তা মিয়েন্ডার প্লাবনভূমি পঞ্চগড় থেকে বগুড়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে নয় লাখ হেক্টরজুড়ে। নদীর পুরোনো বাঁকে গড়া এই সমভূমিতে পাশাপাশি উঁচু জমি আর নিচু বেসিন, মাটি অম্লীয়, কয়েকটি পুষ্টির ঘাটতিও আছে। রংপুরের নতুন গবেষণা বলছে, একই জমিতে বছরে চার-পাঁচটি ফসল সম্ভব। স্যাটেলাইট তথ্য আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিটি জমির জন্য সঠিক ফসল বাছতে সাহায্য করতে পারে, যদি সেই পরামর্শ আগে কৃষকের মাঠে যাচাই হয়।

তানিয়া চৌধুরী২ অক্টোবর ২০২৬১৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)