স্ট্রোকে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে পারে। অথচ লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও অনেকে অপেক্ষা করেন বা বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করেন। আজকের পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হসপিটালের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. সোমেন চৌধুরী সতর্ক করেছেন, প্রতিটি মুহূর্তের দেরিতে মস্তিষ্কের আরও কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্ট্রোক মূলত দুই ধরনের। ইস্কেমিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালি রক্তের জমাট বা অন্য কারণে বন্ধ হয়ে যায়; হেমোরেজিক স্ট্রোকে রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। দুই ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেন ও পুষ্টি না পেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইস্কেমিক স্ট্রোকে শিরার মাধ্যমে ওষুধ দিয়ে জমাট গলানোর চিকিৎসার নাম ইন্ট্রাভেনাস থ্রম্বোলাইসিস। ডা. সোমেন চৌধুরী জানান, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী উপযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে লক্ষণ শুরুর প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে আল্টেপ্লেস বা টেনেক্টেপ্লেস দেওয়া যায়। উন্নত ইমেজিংয়ে মস্তিষ্কের রক্ষাযোগ্য অংশ শনাক্ত হলে সাড়ে চার থেকে নয় ঘণ্টার মধ্যেও থ্রম্বোলাইসিস বিবেচনা করা যেতে পারে, ঘুম থেকে উঠে লক্ষণ দেখা দেওয়া কিছু রোগীর ক্ষেত্রেও।
মস্তিষ্কের বড় রক্তনালিতে জমাট আটকে গেলে নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমিতে বিশেষ যন্ত্র দিয়ে জমাট সরানো যায়। সাধারণত লক্ষণ শুরুর ছয় ঘণ্টার মধ্যে এটি করা হয়, তবে নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত ও ইমেজিং মানদণ্ড পূরণ হলে ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও করা যেতে পারে। তাই হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হলেও চিকিৎসার সুযোগ আছে কি না, যাচাই করা জরুরি। রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তক্ষরণ বাড়ায় এমন ওষুধের প্রভাব কাটানো এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার লাগতে পারে।
ঝুঁকি কমাতে তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, খাবারে লবণ কমানো, শাকসবজি ও ফলসহ সুষম খাবার এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, সঙ্গে চিকিৎসকের নির্দেশমতো ওষুধ।
স্ট্রোকের পর অনেকের হাত-পা দুর্বল হয়, কথা বলা বা হাঁটাচলায় সমস্যা হয়। শুধু ওষুধ এ অবস্থায় যথেষ্ট নয়, জানিয়েছেন ডা. সোমেন চৌধুরী। ফিজিওথেরাপি, কথা বলার অনুশীলন, গিলতে অসুবিধার চিকিৎসা আর দৈনন্দিন কাজের প্রশিক্ষণসহ পুনর্বাসন রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিকিৎসকের পরামর্শে শুরু করা উচিত।
সূত্র: আজকের পত্রিকা




মন্তব্য
(০)