যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার এনন ভ্যালির ডেভ ও ক্যারল স্টেল্টস (Dave and Carol Stelts) ১১ অক্টোবর ওহাইও ভ্যালি জায়ান্ট পাম্পকিন গ্রোয়ার্সের প্রতিযোগিতায় ৪১ জন চাষিকে হারিয়ে প্রথম হয়েছেন। তাঁদের মিষ্টিকুমড়ার ওজন ২,৫৬৫.৫ পাউন্ড, প্রায় ১,১৬৪ কেজি, যা তাঁদের ফলানো সবচেয়ে বড়। ২০২৪ সালে তাঁরা বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন, এবার বিশ্বে অষ্টম হয়েছেন, জানিয়েছেন ফার্ম অ্যান্ড ডেইরির লিজ পার্চ।
সত্তরের দশকে বাবার সঙ্গে বড় মিষ্টিকুমড়া চাষ শুরু করেন ডেভ, ১৯৯৪ সালে আবার ফেরেন। পাহাড়ের ঢালে দুই একরের পুরোনো জমিতে ফসল ঘুরিয়ে চাষ করা যেত না বলে ২০১৩ সালে তাঁরা বর্তমান জমিতে আসেন। মাঝখান উঁচু করে চাষ দিয়ে জমি তৈরি করা হয়েছে, যাতে পানি কিনারার দিকে নেমে যায়। খুঁটি পুঁতে চারটি প্লট ভাগ করে ছায়ার জাল টাঙানো হয়েছে। পানি নিয়ে ডেভের কথা, পানি দরকার হলে দেওয়া যায়, কিন্তু বেশি হলে সরানো যায় না।
মৌসুম শুরু হয় এপ্রিলে, আগের বছরের কুমড়া থেকে রাখা বীজে ঘরের ভেতরে চারা তৈরি করে। দশ দিন পর চারা মাঠে যায় প্লাস্টিক, পলিটানেল ও ছোট গ্রিনহাউসের নিচে, মাটি গরম রাখতে বসানো হয় বৈদ্যুতিক তার। মে মাসের শেষে এসব সরিয়ে মাটিতে উপকরণ মেশানো হয়, বিছানো হয় হাঁটার কাঠের পাটাতন আর ড্রিপ সেচের লাইন। মাটি যাতে চেপে না যায়, সে জন্য তাঁরা কখনো মাটিতে পা রাখেন না। গাছকে নাইট্রেট ও পটাশিয়ামসহ পুষ্টি দেওয়া হয়, বাতাস থেকে বাঁচাতে পাতায় বাঁশের ঠেকনা দেওয়া হয়, জুনে হাতে পরাগায়ন করা হয়।
দশ হাজার বর্গফুট জমিতে তাঁরা আটটি কুমড়া ফলান। সবচেয়ে বড়গুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে ৫০ থেকে ৬০ পাউন্ড করে বাড়ে। নিয়মিত মাটি পরীক্ষা হয়, আর মাটি তৈরি হয় চার বছর আগে থেকে: জায়গা বদলে চাষ, সরিষা ও শীতকালীন রাইয়ের মতো আচ্ছাদন ফসল আর কম্পোস্ট দিয়ে।
সবচেয়ে কঠিন আবহাওয়া। এ বছর ছয়টি টর্নেডো আর গ্রীষ্মের শেষে রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। ডেভ বলেন, গরম, আর্দ্রতা আর ভেজা মাটিতে রোগ অতি দ্রুত ছড়ায়। আটটির মধ্যে তিনটি কুমড়া তাঁরা হারিয়েছেন, তাই গ্রিনহাউসের কথা ভাবছেন। মৌসুম শেষে কুমড়া থেকে বীজ রেখে বাকিটা প্রদর্শনীর জন্য বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়।
ছবি: Nick Ares / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farm and Dairy




মন্তব্য
(০)