ঢাকার বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। ডিলার পর্যায়ে ঘাটতির প্রভাব পড়েছে পাড়া-মহল্লার দোকানে, যেখানে চাহিদামতো এক ও দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সংগঠনের অভিযোগ, সরকারকে চাপে ফেলে লিটারে আরও প্রায় ৬ টাকা দাম বাড়াতেই এই সংকট তৈরি করা হচ্ছে।
সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকলেও খোলা সয়াবিন তেল খুচরা বাজারে লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত ১৮০ টাকার চেয়ে ১৫ টাকা বেশি। শুক্রবার সকালে নয়াবাজারের ৬টি মুদি দোকানের ৪টিতে এক ও দুই লিটারের বোতল দেখা যায়নি; জিনজিরা কাঁচাবাজারের ৮টি দোকানের মধ্যে ৩টিতে এক লিটারের এবং ২টিতে দুই লিটারের বোতল মিলেছে, তবে ৫ লিটারের বোতল ছিল।
জিনজিরার মুদি ব্যবসায়ী সাগর জানান, তাঁদের দৈনিক চাহিদা ২০ কার্টন হলেও ডিলাররা দিচ্ছেন ২ থেকে ৪ কার্টন। কারওয়ান বাজারের এক ব্র্যান্ডের ডিলার নাম প্রকাশ না করে বলেন, কোম্পানিগুলো আবার দাম বাড়াতে চায়, তাই ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমানো হয়েছে।
দাম নিয়ে টানাপোড়েন চলছে জুলাই থেকে। ১১ জুলাই বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন লিটারে ৮-১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়—এক লিটারের বোতল ২০৯ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ১,০১৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৮৮ টাকা ও খোলা পাম তেল ১৮৩ টাকা। শেষ পর্যন্ত ২ সেপ্টেম্বর সরকার এক লিটারের বোতল ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করে।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের ৪-৫টি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে; বছরের নানা সময় ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে সরকারকে চাপে ফেলে তারা দাম বাড়িয়ে নেয়।
রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রের দাবি, বিশ্ববাজারে দাম, আমদানি ব্যয় ও জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে; বর্তমান দরের তুলনায় লিটারে ১৮-২০ টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য টাস্কফোর্সের এক কর্মকর্তা জানান, এখন ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই, নতুন করে দাম বাড়ানোর কোনো চিঠিও কোম্পানিগুলো দেয়নি; দাম বাড়াতে সরবরাহ কমানো হলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন: নাগরিক অনলাইন, নাগরিক টেলিভিশন।
সূত্র: নাগরিক টেলিভিশন





মন্তব্য
(০)