দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি বাণিজ্যিক শূকর খামারের ভেতরে প্রশিক্ষণ দিনে প্রাণিকল্যাণ পরিদর্শক ও খামারিরা যতটা ভেবেছিলেন, তার চেয়ে বেশি বিষয়ে একমত হয়েছেন; তবে প্রসবকালীন খাঁচা আর শূকরছানার লেজ কাটা নিয়ে মতভেদ থেকেই গেছে। খবরটি দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা।
চলতি বছরের শুরুতে প্রাণী নির্যাতন প্রতিরোধ সংস্থা এনএসপিসিএ, দক্ষিণ আফ্রিকান পর্ক প্রডিউসার্স অর্গানাইজেশন (সাপো) ও পশুচিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সিএস ভেট মিলে নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের তাইবস পিগারিতে এই হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে, যাতে এনএসপিসিএর পরিদর্শকেরা বাণিজ্যিক শূকর উৎপাদন নিজের চোখে দেখেন। খামারের মালিক সিপি ক্রিক বলেন, খামার খুলে দেওয়া ভয়ের ছিল, কিন্তু পরিদর্শকেরা উৎপাদন বুঝলে খামারিদের সঙ্গে বিরোধ কমবে। পরিদর্শনের পর তাঁর উপলব্ধি, পরিদর্শকেরা পশুপালন বা মাংস খাওয়ার বিরোধী নন, তাঁরা কৃষিতে পশু নির্যাতনের বিরোধী।
পরিদর্শকেরা খামারের খাদ্য ব্যবহার, কর্মসংস্থান ও পর্ক৩৬০ কল্যাণমান দেখেন এবং প্রজনন, খাওয়ানো, অসুস্থ পশুর চিকিৎসা, মৃত্যুদান ও কর্মী প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেন। খামারটি গর্ভবতী মাদি শূকরকে আলাদা খাঁচা থেকে সরিয়ে দলবদ্ধ আবাসনে এনেছে, যাতে বড় বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন লেগেছে। শূকরছানার কান কেটে চিহ্ন দেওয়ার বদলে ব্যাচভিত্তিক শনাক্তকরণ চালু হয়েছে; শিকল, খড় ও কাঠের গুঁড়ার মতো খেলার উপকরণ দেওয়া হচ্ছে, প্রসবের আগে মাদি শূকরকে বাসা বানানোর উপকরণ দেওয়া হয়। কর্মীরা এখন চিৎকার বা মারধর নয়, হার্ডিং বোর্ড দিয়ে পশু সরান; টিকা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায়ও জোর বেড়েছে।
ক্রিক জানান, কিছু পরিবর্তনে খরচ হলেও উৎপাদনে লাভ হয়েছে: দলবদ্ধ আবাসনে মাদি শূকর বেশি সক্রিয় ও সুস্থ, প্রসবের ফলও কিছুটা ভালো; কান কাটা বন্ধ হওয়ায় ছানারা কম কষ্ট পায় এবং ভালো বাড়ে।
মতভেদ রয়ে গেছে দুটি জায়গায়। খামারিদের মতে প্রসব খাঁচা ছানাকে মায়ের চাপায় মরা থেকে বাঁচায়; আর লেজ কাটা লেজ কামড়ানো ও স্বজাতিভক্ষণ ঠেকায়, যেখানে এনএসপিসিএ একে অঙ্গহানি মনে করে। ক্রিকের ভাষায়, বিষয়টি অচলাবস্থায় আছে, আরও গবেষণা দরকার। সাপোর ভোক্তা নিশ্চয়তা বিভাগের প্রধান ড. থান্ডি কিয়াপেরো বলেন, ইউরোপের মান হুবহু আমদানি করা ঠিক হবে না, কারণ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভর্তুকি ছাড়াই সাশ্রয়ী প্রোটিন উৎপাদন করতে হয়। তবে সাপো ২০৩২ সালের মধ্যে গর্ভকালীন খাঁচা তুলে দেওয়ার সময়সীমা ঠিক করেছে এবং দলবদ্ধ আবাসন উৎসাহিত করতে ‘সোশ্যাল সোজ’ উদ্যোগ চালাচ্ছে।
ক্রিকের মতে, কল্যাণের স্বার্থে বড় লিটারের পেছনে ছোটা থামাতে হবে; জন্মানো ছানার সংখ্যা নয়, দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত টিকে থাকা ছানার সংখ্যাই আসল। প্রতিটি পশুর কাছাকাছি নজরদারির প্রযুক্তি আর এমন খামারঘর, যা ছানাকে সুরক্ষা দিয়েও মাদি শূকরকে চলাফেরার স্বাধীনতা দেয়, সামনে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিন্ডি বোথা।
ছবি: Farmers Weekly South Africa
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)