নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার গৌরবরদী গ্রামের কৃষক রমজান আলী পুকুরপাড়ের ফাঁকা জায়গায় মাচা তৈরি করে মৌসুমের বাইরে নানা রঙের তরমুজ ফলিয়েছেন। কৃষি সময়ের সোনারগাঁ সংবাদদাতার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাত বিঘা জমিতে তরমুজ ও মাছ চাষ করে তিনি এলাকায় সাড়া ফেলেছেন।
বর্তমানে সাত বিঘা জমিতে মাচায় কালাচান ও তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করছেন রমজান আলী। মাচার সবুজ লতায় ঝুলছে কালো ও হলুদ রঙের ছোট-বড় নানা আকারের ফল। একই জায়গায় পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরপাড়ে করলা, লাউসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ রয়েছে।
কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা রমজান আলী বিএসএস পাস করার পর চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ২০০৯ সালে চাষাবাদে যুক্ত হন এবং ২০১৪ সালে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন। টমেটো ও চিচিঙ্গা দিয়ে শুরু হওয়া সেই যাত্রায় পরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফল যুক্ত হয়; উন্নত জাতের বীজ ও নতুন চাষপদ্ধতি নিয়ে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রমজান আলী জানান, চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে তাঁর ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা; ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে বিক্রি শেষে প্রায় চার লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। তাঁর উৎপাদিত ফসল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়ার বাজার ও আড়তে বিক্রি হয়। আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় বর্তমানে গড়ে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন বলে তিনি জানান।
তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করতে পারলে কৃষি তরুণদের জন্যও সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হতে পারে; চাকরি বা বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, রমজান আলীর মতো শিক্ষিত তরুণের আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হওয়া স্থানীয় কৃষির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। কৃষি বিভাগ তাঁকে পরামর্শের পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে বলে তিনি জানান।
প্রতিবেদন: সোনারগাঁ সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)