মাটির পিএইচ ঠিক না থাকলে চারণভূমির ঘাস মাটির পুষ্টি কাজে লাগাতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও ও পূর্বাঞ্চলের নাতিশীতোষ্ণ এলাকার মাটি স্বাভাবিকভাবেই ফসলের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অম্লীয়, ফার্ম অ্যান্ড ডেইরিতে নিজের কলামে লিখেছেন এমা ম্যাচাম (Emma Matcham)। পিএইচ কম হলে ফসফরাসসহ প্রধান পুষ্টি কম পাওয়া যায়, শিম জাতীয় গাছ বাতাস থেকে নাইট্রোজেন কম ধরে রাখে। ফলে অম্লীয় চারণভূমি থেকে ধীরে ধীরে ক্লোভার হারিয়ে কেবল ঘাস থেকে যায়।
পিএইচ খুব কম বা খুব বেশি, দুটোতেই শিকড় দুর্বল হয়। তাতে গাছ দুর্বল হয়, ফাঁকা জমি ও আগাছা বাড়ে, খরায় ক্ষতি বেশি হয়। উচ্চ পিএইচে মূলত অণুপুষ্টির সমস্যা হয়, তবে ওই অঞ্চলে কম পিএইচই বেশি দেখা যায়।
প্রথম কাজ মাটি পরীক্ষা। চারণভূমিতে বছরের যেকোনো সময় নমুনা নেওয়া যায়, তবে প্রতিবছর একই মৌসুমে নিলে পরিবর্তন বোঝা সহজ। শরৎ এ জন্য উপযোগী: মাটি গাড়ি চালানোর মতো শক্ত, আবার নমুনা নেওয়ার যন্ত্র বাঁকানোর মতো শুকনো নয়, আর শীতজুড়ে পরের বছরের সার পরিকল্পনার সময় মেলে। পরীক্ষাগারের ফরম ঠিকঠাক পূরণের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন, কারণ ফসলভেদে লক্ষ্য পিএইচ আলাদা।
তাঁর দেওয়া মাপ অনুযায়ী, নিচের স্তরের মাটির পিএইচ ৬-এর কম হলে আলফালফার জন্য লক্ষ্য ৬.৮, বেশি হলে ৬.৫। অন্যান্য শিম জাতীয় পশুখাদ্য ও ঘাসের লক্ষ্য যথাক্রমে ৬.৫ ও ৬। ফল লক্ষ্যের চেয়ে ০.২-এর বেশি কম হলে চুন দেওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে। কতটা চুন লাগবে, তা আসে প্রতিবেদনের বাফার পিএইচ বা বিনিময়যোগ্য অম্লতার হিসাব থেকে। দেখে নিতে হবে সুপারিশটি স্থায়ী চারণভূমি বা চাষবিহীন জমির জন্য কি না, কারণ মাটিতে না মেশানো চুন কেবল ওপরের ৪ ইঞ্চি, প্রায় ১০ সেন্টিমিটার মাটির পিএইচ বদলায়।
পুরু বরফ না থাকলে শরৎ বা শীতে চুন দেওয়া যায়। চুন কতটা মিহি, তার ওপর নির্ভর করে ৬ থেকে ২৪ মাসে পিএইচ বাড়ে; নভেম্বরে দেওয়া চুন এপ্রিলের মধ্যে আংশিক কাজ করে। সদ্য চুন দেওয়া জমিতে নাইট্রোজেন সার দেওয়ার আগে মাঠ ঘুরে দেখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি, কারণ ওপরে পড়ে থাকা চুন নাইট্রোজেনকে বাতাসে উড়িয়ে দেয়, সার নষ্ট হয়।
ছবি: Mark Robinson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farm and Dairy





মন্তব্য
(০)