সার বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি বা কৃষক হয়রানির অভিযোগ পেলে নতুন নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে, আর কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে আসন্ন রবি মৌসুমের সার সরবরাহ নিয়ে সভায় তিনি এ কথা বলেন বলে কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) জানিয়েছে।
কৃষিসচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে সভায় দেশের সব জেলার জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকেরা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, নতুন ডিলারদের লাইসেন্সের সঙ্গে ডিলারশিপ এলাকা নির্ধারণ করতে হবে জমির পরিমাণ, কৃষকের সংখ্যা ও ফসলের নিবিড়তা বিবেচনায়।
সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ডিলারের দোকানে মূল্যতালিকা ও মজুতের তথ্য টাঙাতে হবে। কৃত্রিম সংকট, বাড়তি দাম, মজুতদারি ও সীমান্ত দিয়ে পাচারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত অভিযান চালাতে বলেন তিনি। প্রকৃত কৃষকের কাছে সার পৌঁছাতে কৃষক কার্ড ও কৃষকের তালিকা ব্যবহারের নির্দেশও দেন।
মন্ত্রী জানান, এ বছর চাহিদার চেয়েও বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে এবং নতুন কোনো ফসলের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি; তবু চাহিদা বাড়লে সরকার প্রস্তুত। প্রতিবেশী দেশের কিছু এলাকায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় সেগুলো পাচারের আশঙ্কা আছে, আবার কোথাও ইউরিয়ার সংকটে ইউরিয়াও পাচার হতে পারে; তাই সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি।
বস্ত্র ও ডাইং কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ইউরিয়া ব্যবহারের তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং জেলা সার মনিটরিং কমিটিকে নিয়মিত সভা করতে বলেন মন্ত্রী। কোনো জেলায় সার নিয়ে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে জবাবদিহি করতে হবে বলেও জানান তিনি।
রবি মৌসুমে কৃষক সময়মতো ও সরকারি দামে সার পাবেন কি না, তা নির্ভর করবে ডিলার পর্যায়ের এই নজরদারি কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।
ছবি: LHcheM / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস





মন্তব্য
(০)