ভালো ফসল মানেই লাভজনক খামার নয়। দুটোর পার্থক্য বোঝার উপায় আয় বিবরণী বা লাভ-ক্ষতির হিসাব, ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকায় ৩০ অক্টোবর এক আর্থিক নির্দেশিকায় লিখেছেন Cobus du Plessis (কোবুস ডু প্লেসিস)। এই হিসাব এক অর্থবছরে খামারের পারফরম্যান্সের সারসংক্ষেপ, যা একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়: খামার টাকা কামিয়েছে না হারিয়েছে, আর কত?
উদাহরণ হিসেবে তিনি নিয়েছেন লিম্পোপোর এক কাল্পনিক কিন্তু বাস্তবসম্মত কৃষক থাবো মোকোয়েনাকে, যিনি ১৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা ও টমেটো চাষ করেন, সঙ্গে ছোট একটি ব্রয়লার খামার। মোকোয়েনার মোট আয়ে শুধু নগদ বিক্রি নয়, মজুত বাড়ার ১২ হাজার র্যান্ডও ধরা হয়েছে। এটাই উপার্জনভিত্তিক হিসাব: আয় ও খরচ ধরা হয় যখন তা অর্জিত বা সংঘটিত হয়, টাকা হাতবদলের সময় নয়। ১০ টন ভুট্টা তুলে বছর শেষের আগে ৮ টন বেচলে গোলায় থাকা ২ টনও এ বছরের আয়। শুধু নগদের হিসাবে বড় বিক্রির মাসে খামারকে ধনী আর উপকরণ কেনার মাসে দেউলিয়া মনে হতে পারে।
সরাসরি উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে মোট মুনাফা ১,৮৩,১০০ র্যান্ড, যা মোট আয় ৩,৩৭,৭০০ র্যান্ডের ৫৪.২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি র্যান্ড আয়ের ৫৪ সেন্ট বীজ, সারসহ সরাসরি খরচ মেটানোর পরও থাকে। লেখক এই হারকে অ্যাগ্রিএসএ, ল্যান্ড ব্যাংক বা গ্রেইন এসএর মতো সংগঠনের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দেন। উৎপাদনের সঙ্গে ওঠানামা করা পরিবর্তনশীল খরচ আর স্থায়ী শ্রমিকের মজুরির মতো স্থির খরচ আলাদা করলে বোঝা যায় কত উৎপাদন করলে লাভ-ক্ষতি সমান হয়, আর খরার বছরে স্থির খরচ কেন বেশি ভোগায়।
নতুন খামারিরা যে খরচটি সবচেয়ে বেশি এড়িয়ে যান, তা হলো অবচয়। মোকোয়েনার হিসাবে অবচয় ২২,৮০০ র্যান্ড, যদিও এ জন্য তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো টাকা যায়নি। সরলরৈখিক পদ্ধতিতে ২ লাখ ৮০ হাজার র্যান্ডের একটি ট্রাক্টর, যার ১০ বছর পর বিক্রিমূল্য ৩০ হাজার র্যান্ড, বছরে ২৫ হাজার র্যান্ড মূল্য হারায়। অবচয় না ধরলে কৃষক নিজেকে যতটা লাভবান ভাবেন, ততটা নন; ট্রাক্টর একদিন অচল হলে নতুন কেনার টাকা থাকে না। তাই বাণিজ্যিক খামারিরা প্রতিবছর অবচয়ের সমান অর্থ যন্ত্র বদলের জন্য সরিয়ে রাখেন।
মোকোয়েনার নিট খামার আয় ৬৪,৬০০ র্যান্ড, যা জমির অগ্রিম ইজারা, যন্ত্রপাতি ও চলতি পুঁজিতে আটকে থাকা ছয় লাখ র্যান্ডের বেশি অর্থের ওপর মোটামুটি ১০ শতাংশ ফেরত। প্রশ্ন জাগে, জমি ইজারা দিয়ে টাকা অন্যত্র খাটালে বেশি আয় হতো কি না। লেখক ব্যক্তিগত খরচ আর খামারের খরচ না মেশানো, গোলার শস্য, মাঠের ফসল ও গবাদিপশুর মূল্য প্রতিবছর একই নিয়মে ধরা, এবং পরিচালন ব্যয় ও মোট আয়ের অনুপাত, সম্পদের ওপর ফেরত ও ঋণ-আয়ের অনুপাতের মতো সূচক দেখারও পরামর্শ দেন।
ছবি: JMK / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)