বপনের জন্য রাখা বীজের সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণ সেবাকে জিএসটির বাইরে রাখার যে সুপারিশ জিএসটি কাউন্সিল করেছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে ফেডারেশন অব সিড ইন্ডাস্ট্রি অব ইন্ডিয়া (এফএসআইআই)। তবে খরচ বা চলতি মূলধনের চাপ বাড়াতে পারে, এমন আরও দুটি কর প্রস্তাব নিয়ে সংগঠনটি সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জিএসটি কাউন্সিলের ৫৭তম সভায় এসব সুপারিশ আসে। বীজের ওপর জিএসটি শূন্যই থাকছে, কিন্তু বীজ সংরক্ষণ ও গুদামের সেবায় দেওয়া কর এত দিন শিল্পের জন্য ফেরতযোগ্য ছিল না। সংগঠনটি বলছে, এই মওকুফ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে চাপ কমাবে, যখন বপন মৌসুমের আগে বীজের মান ও অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা ধরে রাখতে হয়।
রপ্তানি সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোকেও স্বাগত জানিয়েছে এফএসআইআই, যার মধ্যে আছে দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয় কর ফেরত এবং মূলধনী পণ্যের উপকরণ কর রেয়াত ফেরতের যোগ্যতা বাড়ানো; এতে বীজ রপ্তানিকারকদের নগদ প্রবাহ ভালো হতে পারে। ই-ওয়ে বিল তল্লাশি, জিএসটি নিবন্ধন ও জরিমানার প্রস্তাবিত সংস্কারে বীজ কোম্পানি, ডিলার ও পরিবেশকদের নিয়ম মানার ঝামেলাও কমতে পারে; বপনের অল্প সময়ের মধ্যে তাদের প্রায়ই রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে চালান পাঠাতে হয়।
এফএসআইআইয়ের চেয়ারম্যান অজয় রানা বলেন, মানসম্পন্ন বীজই খামারের উৎপাদনশীলতার ভিত্তি, আর সংরক্ষণ, পরিবহন ও রপ্তানিতে খরচ কমানোর প্রতিটি পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কৃষকের কাছে ভালো বীজ পৌঁছানো সহজ করে। তিনি জানান, শিল্পের কোনো অংশের ওপর যেন অসম খরচ বা নিয়মের বোঝা না পড়ে, সে জন্য বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে কাজ করবে সংগঠনটি।
যে দুটি প্রস্তাব এফএসআইআই খতিয়ে দেখতে চায়: নির্দিষ্ট ই-কমার্স ডেলিভারি সেবায় উপকরণ কর রেয়াত ছাড়া ৫ শতাংশ জিএসটি, এবং বর্জ্য ও স্ক্র্যাপের নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেনে ২ শতাংশ উৎসে কর কর্তন। সংগঠনটি বলছে, দুটিই খরচ বা চলতি মূলধনে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই বীজখাতে এগুলো কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে তারা ব্যাখ্যা চাইবে।
কাউন্সিলের সুপারিশ করা প্রক্রিয়াগত সংস্কারের বেশির ভাগ ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
রুরাল ভয়েসের পক্ষে প্রতিবেদনটি লিখেছেন অজিত সিং।
ছবি: CIAT / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)