সাতক্ষীরা পৌরসভার অনানুষ্ঠানিক বসতিতে থাকা জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর ৯০ দশমিক ৮ শতাংশের ঘরে কোনো খাবার মজুত নেই, আর জরিপে খাদ্যনিরাপদ একটি পরিবারও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (প্রাণ) গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
২০২৬ সালের আগস্টে পৌরসভার ৩৫টি বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ১ হাজার ৩৪১ জনের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়। ২৩ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার মাঝারি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়। খাবার জোগাতে ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার উৎপাদনশীল সম্পদ বা ঘরের জিনিস বিক্রি করেছে, আর শিশুদের খাওয়াতে ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারের বড়রা নিজেরা কম খেয়েছেন। সপ্তাহে গড়ে মাত্র ১ দশমিক ৯ দিন মাছ, মাংস বা ডিম জোটে।
পানির সংকটও তীব্র। ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার অন্তত আংশিকভাবে লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল। গত এক মাসে অর্ধেক পরিবারের অন্তত একজন পানিবাহিত রোগে ভুগেছেন, যাঁদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা পাননি। গত ১২ মাসে ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের ঘরে পানি উঠেছে, ৫৯ শতাংশ উচ্ছেদের হুমকিতে।
বাস্তুচ্যুতির সময় ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার গবাদিপশু বা হাঁস-মুরগি, ৪১ দশমিক ১ শতাংশ কৃষিজমি এবং ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ মাছ ধরার সরঞ্জাম হারিয়েছে। আগে চাষ, মাছ ধরা বা পশুপালনে থাকা অনেকে এখন দিনমজুর, ভ্যান-রিকশাচালক বা গৃহকর্মী; ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশের আয় কমেছে। মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আছে, ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ বিদ্যালয়ের বাইরে।
৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ সামনে রেখে সংগঠন দুটি বাস্তুচ্যুত মানুষের ক্ষতিপূরণ, খাদ্যনিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে অনুদানভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থায়ন চেয়েছে। দেশে তাদের সুপারিশ: খাসজমিতে স্থায়ী আবাসন, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়, জরুরি খাদ্যসহায়তা, নিরাপদ পানি এবং পরিচয়পত্রের জন্য বসতিভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাকশনএইডের ম্যানেজার অমিত রঞ্জন বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে উপকূলের মানুষের কৃষিজমি, খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস উদ্ধৃত করে গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসী হতে পারেন।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)