দেশের প্রধান প্রাকৃতিক মাছ প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর দুই পাড়ে ১ হাজার ২৯ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এর ৫১৭টি ঔষধি, ২৩টি বিপন্ন, আর সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে আরও ১০০টি প্রজাতি বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে। একই গবেষণায় নদীদূষণের ২৯টি উৎস চিহ্নিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রামে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপিনিয়নের (ইকো) সংবাদ সম্মেলনে এ ফল তুলে ধরা হয়।
বিএসআরএমের সহযোগিতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গবেষণাটি চালানো হয়। নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক (রাসেল), তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের সাবেক সভাপতি ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন।
শনাক্ত উদ্ভিদগুলো ৫৮৭টি গণ ও ১৫২টি পরিবারের। এর মধ্যে বড় বৃক্ষ ২১২ প্রজাতির, গুল্ম ১৩৩টি, লতা ১৩৩টি, বীরুৎ ৫২২টি ও পরজীবী ৯টি; এ ছাড়া ২টি নগ্নবীজি, ১৩টি মসগোত্রীয়, ৩৫টি ফার্ন ও ৭ প্রজাতির ছত্রাক পাওয়া গেছে। ৭৬৫টি স্থানীয় ও ২৪৪টি বিদেশি প্রজাতি; দ্বিবীজপত্রীতে ফ্যাবেসি আর একবীজপত্রীতে ধান-ঘাসজাতীয় পোয়াসি গোত্রের প্রাধান্য।
ঔষধি উদ্ভিদের মধ্যে আছে কুর্চি, বচ, আপাং, কালমেঘ, হিজল, ছাতিম, আকন্দ, হাতিশুঁড়, সোনালু ও স্বর্ণলতা। বিপন্ন ২৩ প্রজাতির মধ্যে বাটনা, লেইস্যা বা লেকুয়া গর্জন, চাউ তাল, ঈশ্বরমূল, নেরা মিলাতি, পাখা ঢেকিয়া, বনিপদ, মাইল্লা আম, পানিজাম ও চালমুগড়া উল্লেখযোগ্য। ঝুঁকিতে থাকা ১০০ প্রজাতির মধ্যে আছে নীলভুট্টা, তেজবহুল, সিধা জারুল, অশোক, বরুন ও লবঙ্গ লতা।
দূষণের ২৯টি উৎসের মধ্যে পানিদূষণের ১৩টি, বায়ুদূষণের ১০টি, মাটিদূষণের ১১টি, ভারী ধাতুর ৬টি ও প্লাস্টিকদূষণের ৩টি উৎস আছে; একাধিক দূষণ একই উৎস থেকে আসায় যোগফল ২৯-এর বেশি। ইকোর ১৩ সুপারিশের মধ্যে আছে বিপন্ন উদ্ভিদ সংরক্ষণ, ভাঙন রোধে স্থানীয় প্রজাতির গাছ লাগানো, পানির মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, তীরের কৃষকদের জৈব চাষে উৎসাহ দেওয়া, শিল্পবর্জ্য শোধন, অবৈধ দখল বন্ধ এবং নালার অপরিশোধিত পানি নদীতে ফেলা বন্ধ।
অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, হালদাকে মূলত মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হিসেবেই চেনা হয়, কিন্তু এর দুই পাড়ের উদ্ভিদবৈচিত্র্য নিয়ে আগে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হয়নি। তীরের গাছপালা ভাঙন ঠেকায় আর নদীর পানি ও মাছের পরিবেশ টিকিয়ে রাখে, তাই তীরের কৃষকদের চাষাবাদ আর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দুটোই হালদার মাছের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি: Syed Nur Kamal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)