দেশে দেখার রেকর্ড ১০ বারেরও কম, এমন অতি বিরল পাখি ভুজঙ্গ বা কাকঠুঁটো ফিঙের দেখা মিলেছে কুয়াকাটার ঝাউবনে। দুই যুগ ধরে পাখিটি খুঁজছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি, বন্য প্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ আ ন ম আমিনুর রহমান। প্রথম আলোয় তিনি সেই অভিযানের কথা লিখেছেন।
এর আগে পাখিটি দেখা গেছে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা, ইনানী, কাপ্তাই, হাজারিখিল, লাউয়াছড়া, করমজল ও কুয়াকাটায়। সাম্প্রতিক রেকর্ড দেখে ‘বার্ডিংবিডি ট্যুরস’ কুয়াকাটায় পন্থ-পরিযায়ী পাখি খোঁজার অভিযান ঘোষণা করে। আটজনের দল ১৫ অক্টোবর রাতে রওনা হয়; প্রথম দিন লেম্বুর বনে পাঁচ ঘণ্টা খুঁজেও পাখিটি মেলেনি।
পরদিন বাদাবনসংলগ্ন ঝাউবনে ফিঙের দলের ছবি তুলতে গিয়ে বুক-পেটে সাদা ফোঁটা, খাটো ও শক্ত ঠোঁটের একটি ফিঙে চোখে পড়ে। লেখক ও ইকবাল বাবু মাত্র তিনটি ছবি তুলতেই পাখিটি উড়ে যায়। পরে শনাক্ত হয়, এটিই ভুজঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গে যাকে বলে কাকচঞ্চু ফিঙে; ইংরেজি নাম ক্রো-বিল্ড ড্রোঙ্গো।
লেখকের বর্ণনায়, পাখিটি লম্বায় ২৭ থেকে ৩২ সেন্টিমিটার, ওজন ৪৪ থেকে ৬৮ গ্রাম। পালক চকচকে কালো, লেজ তুলনামূলক চওড়া এবং ফিঙের মতো গভীরভাবে চেরা নয়, চোখ গাঢ় বাদামি। ভালো করে না দেখলে সাধারণ ফিঙে থেকে আলাদা করা কঠিন। এরা চিরসবুজ, পাতাঝরা ও বাদাবনে থাকে, কীটপতঙ্গ, ব্যাঙ, সরীসৃপ ও ছোট পাখি খায়।
বাংলাদেশে এটি ‘তথ্য অপ্রতুল’ পাখি; অনেকের মতে পন্থ-পরিযায়ী হিসেবে অক্টোবরে অল্প কয়েক দিনের জন্য আসে। এপ্রিল থেকে জুন প্রজননকালে হিমালয় ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি বনে গাছের দোডালায় বাটির মতো বাসা বানিয়ে তিন-চারটি ডিম পাড়ে। লেখক জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে দুটি ভুজঙ্গ মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও দেখা যাচ্ছে।
উপকূলের ঝাউবন ও বাদাবন যে এমন বিরল পরিযায়ী পাখির বিশ্রামের জায়গা, এই দেখা তা আবার মনে করিয়ে দিল।
ছবি: Sourabh Biswas / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)