গম, যব ও ভুট্টার রপ্তানি শুল্ক ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্য রাখার ডিক্রি জারি করেছে রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এই প্রথম সূর্যমুখী তেল ও সূর্যমুখী খৈলের শুল্ক ভাসমান না রেখে নির্দিষ্ট সীমায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার।
২০২১ সাল থেকে রাশিয়া শস্য রপ্তানিতে ভাসমান শুল্ক নেয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শস্যের শুল্ক শূন্য করা হলেও শেষ তারিখ ছিল না; নতুন ডিক্রি তারিখ ঠিক করে দেওয়ায় চতুর্থ প্রান্তিকে জাহাজীকরণের জন্য বুক করা চালানের খরচ নিয়ে রপ্তানিকারকদের অনিশ্চয়তা কাটল। সূর্যমুখী তেলের শুল্ক এখন আগস্টের স্তরে, টনপ্রতি ৭,৭৪৮ রুবল, আর খৈলের টনপ্রতি ৩১২ রুবল; বর্তমান বিনিময় হারে যথাক্রমে প্রায় ৯২ ডলার ও ৪ ডলারের কম।
উপকৃষিমন্ত্রী মাক্সিম বোরোভয় বলেন, এতে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে, দেশের চাষি ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের উৎপাদন লাভজনক থাকবে আর রপ্তানি লজিস্টিকস পুনর্গঠনের সময়েও রপ্তানি নিয়মিত চলবে। কৃষ্ণসাগরের রুশ টার্মিনালে হামলায় আজভ-কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সক্ষমতা কমেছে, যেখানে একসময় মাসে ৫০ লাখ টনের বেশি শস্য রপ্তানি হতো; জাহাজের বিমার খরচও বেড়েছে।
গত দশকের বেশির ভাগ সময় রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম রপ্তানিকারক, বিশ্বের গম চালানের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তাদের; মিসর ও তুরস্ক সবচেয়ে নির্ভরশীল ক্রেতাদের মধ্যে। গ্লোবাল এগ্রিকালচারের উদ্ধৃত বিশ্লেষকদের ধারণা, শূন্য শুল্কে রাশিয়ায় খামারপর্যায়ে শস্যের দাম সামান্য বাড়বে।
ভারতের মতো আমদানিকারক, যারা ভোজ্যতেলের বেশির ভাগ বাইরে থেকে কেনে এবং সূর্যমুখী তেলের বড় অংশ পায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে, তাদের জন্য শুল্ক শূন্য না করে সীমা বেঁধে দেওয়ায় রুশ সূর্যমুখী তেল প্রতিযোগিতামূলক দামে থাকছে, তবে বড় দাম কমার সুযোগ মিলছে না। গমের বাজারে এখন প্রশ্ন, রাশিয়া ২০২৭ সালেও শূন্য শুল্ক বাড়াবে কি না।
ছবি: Afonin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)