অস্থির খাদ্য সরবরাহ চেইনের আর্থিক ঝুঁকি ক্রমেই কৃষকের কাঁধে চাপছে, আর খুচরা বিক্রেতা ও প্রস্তুতকারকেরা স্বল্পমেয়াদি সমাধান খুঁজছে। যুক্তরাজ্যের বড় বড় খাদ্য উৎপাদক, প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এক স্মারকলিপির বরাতে এ খবর দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
অলাভজনক সংস্থা ইনসাইড ট্র্যাকের সমন্বয়ে বিনিয়োগকারী, মালিক ও ঋণদাতাদের উদ্দেশে লেখা স্মারকলিপিতে বলা হয়, চরম আবহাওয়া, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও মাটির অবক্ষয় ইতোমধ্যে ফলন, মান ও সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা কমাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ চেইনে বিনিয়োগ না করে উপকরণ বা উৎস অঞ্চল বদলে সামলাচ্ছে, আর বাড়তি খরচ সরবরাহকারী ও কৃষকের ওপর চাপানো হচ্ছে।
গোষ্ঠীটির মতে, অভিযোজনে বিনিয়োগ করতে কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য আয় দরকার। আবহাওয়ার ধাক্কার পর সরবরাহকারী বদলে ফেললে খামার আর ঘুরে দাঁড়াতে না-ও পারে। কম পশুকল্যাণ মানের আমদানি করা মাংসের দিকে ঝোঁকের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে; সূত্রগুলো ফার্মার্স উইকলিকে জানিয়েছে, ব্রিটিশ মাংসের প্রচার চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন সস্তা আমদানি খুঁজছে।
ইনসাইড ট্র্যাকের বিনিয়োগকারী সম্পৃক্ততা বিভাগের প্রধান আনা কাডেফোর্ড বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ শিল্পের ঝুঁকি বুঝতে সঠিক প্রশ্ন করছে না, ঝুঁকি কমাতে সময় ও বাজেটও দিচ্ছে না।
ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের (এনএফইউ) সভাপতি টম ব্র্যাডশ বলেন, ঝুঁকির বাড়তি ও অসম ভার বইছেন কৃষকেরা, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে, যেখানে সরকারি সরাসরি সহায়তা প্রায় উঠে গেছে। ব্রিটিশ মিট প্রসেসর্স অ্যাসোসিয়েশনের নান জোন্স বলেন, শুধু উৎস বদলানোকে টেকসই সক্ষমতা বলা যায় না; আর লন্ডনের সিটি সেন্ট জর্জেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিম ল্যাংয়ের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী নিবিড় চাষের মডেল ভেঙে পড়ছে।
স্মারকলিপির সতর্কবার্তা, টেকসই সক্ষমতায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে বাছাইয়ের সুযোগ কমবে, খাবারের দাম বাড়বে, জমি ও পানির জন্য প্রতিযোগিতা বাড়বে, আর কৃষকদের পুরো ফসল বা পাল হারাতে হতে পারে।
সূত্র: Farmers Weekly




মন্তব্য
(০)