ছোট কৃষক পরিবারের আয় ও পুষ্টি বাড়ানো এবং একই সঙ্গে নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উপযোগী জলজ খাদ্যের ব্যবসার মডেল যাচাই করতে ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর কম্বোডিয়ার কাম্পং থম প্রদেশে প্রায় ৩০ জনকে নিয়ে কর্মশালা করেছে ওয়ার্ল্ডফিশ (WorldFish) কম্বোডিয়া। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির এক ব্লগে এ কথা জানানো হয়েছে।
সিজিআইএআরের মাল্টিফাংশনাল ল্যান্ডস্কেপস প্রোগ্রামের আওতায় আয়োজিত কর্মশালায় ছিলেন কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যাংক, সংরক্ষণ সংস্থা, কমিউনিটি মৎস্য সংগঠন, ব্যবসায়ী ও কৃষক। তাঁদের অনেকে এসেছিলেন নিম্ন মেকং অববাহিকার সেসান, স্রেপক ও সেকং নদী নিয়ে গঠিত '৩এস' অঞ্চল থেকে।
উপস্থাপিত পাঁচটি মডেলের মধ্যে ছিল সমবায়ভিত্তিক কমিউনিটি মৎস্য উদ্যোগ, ধানখেতের মাছের পুকুরের সঙ্গে সবজি চাষ, এবং নদী, বন, মৎস্য ও স্থানীয় সংস্কৃতিনির্ভর পরিবেশ-পর্যটন। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রযুক্তিগত, পরিবেশগত ও আইনি বাস্তবতার নিরিখে প্রতিটি মডেলকে নম্বর দেন।
মাঠ সফরে তাঁরা ধানখেতে চিংড়ি চাষের খামার ঘুরে বিনিয়োগ খরচ, লাভের হার, ফসল তোলার সময় এবং বাণিজ্যিক খাবার ও চিংড়ির পোনা কোথায় মেলে তা নিয়ে আলোচনা করেন। সবচেয়ে আগ্রহ জাগায় একটি পদ্ধতি: ধানের ক্ষতিকর পোকা হিসেবে পরিচিত আগ্রাসী সোনালি আপেল শামুক চিংড়িকে খাওয়ানো। কৃষকেরা জানান, এতে খরচ কমে এবং দামি বাণিজ্যিক খাবারের ওপর নির্ভরতা কমে। ধান-মাছ-সবজির সমন্বিত খামারে স্থানীয়ভাবে পাওয়া পোকামাকড় মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
দেশটির জাতীয় স্কুল খাবার কর্মসূচিতে মাছ, চাল, সবজি ও ডিম সরবরাহকারী কৃষি সমবায়গুলো জানায়, তারা কীভাবে উৎপাদকদের সংগঠিত করে, মান বজায় রাখে ও অর্থায়ন পায়। যেসব প্রত্যন্ত এলাকায়, বিশেষ করে ৩এস অঞ্চলে, এই কর্মসূচি এখনো পৌঁছায়নি, সেখানে এমন সংগঠন কীভাবে স্কুলে খাবার জোগাতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
রতনকিরি প্রদেশভিত্তিক ৩এস রিভার প্রোটেকশন নেটওয়ার্কের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ইয়ুই নাং নয় বলেন, এসব পদ্ধতি পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, বরং পরিপূরক; নারী ও তরুণদের জন্য তিনি মূল্য শৃঙ্খলে অনেক সুযোগ দেখছেন।
ছবি: Anilakeo / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: WorldFish




মন্তব্য
(০)