২০২৪ সালের খরা এবং ২০২৫-২৬ সালের রোগের প্রাদুর্ভাবের পর দক্ষিণ আফ্রিকার পশুপালন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। পশুখাদ্যের খরচ কমেছে, চারণভূমিও ভালো। তবে এই পুনরুদ্ধার বিভিন্ন মাংসের দামকে উল্টো দিকে টানছে। আবসা (Absa) ব্যাংকের 'অ্যাগ্রিট্রেন্ডস স্প্রিং ২০২৬' প্রতিবেদনের বরাতে ব্যাংকটির কৃষি অর্থনীতিবিদ জেড স্মিথ (Jade Smith) ফার্মার্স উইকলিকে এ তথ্য জানান।
গরু ও ভেড়ার খামারিরা পাল নতুন করে গড়তে প্রজননক্ষম পশু জবাই না করে রেখে দিচ্ছেন। এতে গরু, ভেড়া ও খাসির মাংসের সরবরাহ কম, দামও চড়া। শূকর ও মুরগিতে চিত্র উল্টো: রোগের ধাক্কা কমায় জবাই ও উৎপাদন বাড়ছে, ফলে কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদক পর্যায়ে দাম পড়ছে।
সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে ক্ষুরারোগ থেকে। জুলাইয়ে গরু জবাই আগের বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কমেছে, ২০২৬ সালে জবাইয়ের পরিমাণ ২০২৪ ও ২০২৫ সালের চেয়ে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কম, আর বছরের প্রথম সাত মাসে গরুর মাংস রপ্তানি কমেছে ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। স্মিথের মতে, রপ্তানি ফেরাতে, বিশেষ করে চীনে যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার গরুর মাংস আমদানি এখনো স্থগিত, রোগ নিয়ন্ত্রণ, পশু চিকিৎসা প্রটোকল ও উৎস শনাক্তকরণ জরুরি। জুলাইয়ে বাছুরের দাম বছরওয়ারি ৩২ দশমিক ২ শতাংশ এবং 'ক্লাস সি' মাংসের দাম ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, তবে 'ক্লাস এ' মাংসের দাম কমেছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।
ভেড়ার খামারিরাও বছরের পর বছর খরা, পশু চুরি ও রোগের ধাক্কা সামলে পাল গড়ছেন। জুলাইয়ে ভেড়ার বাচ্চার মাংসের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বড় ভেড়ার মাংসের দাম ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। স্মিথ বলেন, পাল আগের অবস্থায় ফিরতে দুই থেকে চার বছর লাগতে পারে। তবে দেশের বাজার রপ্তানির চেয়ে ঘরোয়া চাহিদার ওপর বেশি নির্ভরশীল বলে ক্রেতার সামর্থ্য দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকিয়ে রাখবে।
শূকরের ক্ষেত্রে ক্ষুরারোগ ও আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের কারণে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় প্রথম প্রান্তিকে দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৪০ র্যান্ডে ওঠে, যেখানে স্বাভাবিক দাম প্রায় ৩২ র্যান্ড। প্রথম পাঁচ মাসে আমদানি বাড়ে ১৪৯ শতাংশ; জুলাইয়ে শূকরের দাম আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমে আসে। রোগের প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও দেশের মোট দুধ উৎপাদন স্থিতিশীল রয়েছে।
স্মিথের মতে, ক্ষুরারোগ, আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার ও বার্ড ফ্লু এখনো সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। সম্ভাব্য এল নিনো শস্য উৎপাদন কমিয়ে ভুট্টা ও পশুখাদ্যের দাম বাড়াতে পারে, যদিও দেশে ভুট্টার পর্যাপ্ত মজুত স্বল্পমেয়াদে সেই চাপ কিছুটা সামলাবে বলে তিনি আশা করছেন।
ছবি: Justinjerez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা




মন্তব্য
(০)