কোরআন জ্যোতির্বিজ্ঞানের বই নয়, মানবজাতির জীবনব্যবস্থার নির্দেশিকা। তবে এতে আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন বোঝাতে মহাবিশ্ব ও গ্রহ-নক্ষত্রের কথা এসেছে। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক এমন তিনটি আয়াত ও সেগুলোর তাফসির তুলে ধরেছে, এবং এগুলোকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে।
প্রথমটি সুরা জারিয়াতের ৪৭ নম্বর আয়াত, যেখানে আল্লাহ বলেন, ‘আমি স্বীয় ক্ষমতায় আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমিই এর সম্প্রসারণকারী।’ লেখায় একে ১৯২৯ সালে এডউইন হাবলের দেখানো প্রসারমাণ মহাবিশ্বের সঙ্গে মেলানো হয়েছে। ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে এই অংশের অর্থ করেছেন, আকাশের প্রশস্ততা বাড়ানো এবং একে পৃথিবীর ওপরে উঁচু ও বিশাল করে স্থাপন করা।
দ্বিতীয়টি সুরা আম্বিয়ার ৩৩ নম্বর আয়াত: রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদ প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে। ‘ইয়াসবাহুন’ শব্দের ব্যাখ্যায় কুরতুবি বলেছেন, এগুলো মহাশূন্যে এমনভাবে চলমান, যেমন পানিতে কিছু সাঁতার কাটে। লেখায় এর সঙ্গে সূর্যের সৌরজগৎ নিয়ে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে ছুটে চলার কথা জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়টি সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াত, যেখানে আসমান ও জমিনের মিশে থাকা এবং পরে আলাদা করার কথা আছে। ইমাম তাবারির ব্যাখ্যায়, সৃষ্টির শুরুতে আসমান ও জমিন জোড়া লাগানো ছিল, তাদের মাঝে কোনো ফাঁকা স্থান ছিল না; পরে আল্লাহ তাদের আলাদা করেন। লেখায় একে মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের মতে, এসব নিদর্শন বোঝায় যে কোরআন মানুষের রচিত নয়। আয়াত ও বিজ্ঞানের এই তুলনা লেখাটির নিজস্ব পাঠ। লেখায় তাফসিরগুলোর গ্রন্থসূত্রও দেওয়া আছে।
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)