মহানবী মুহাম্মদ (সা.) স্বাস্থ্যকে ইমানের পর সবচেয়ে বড় নেয়ামত বলেছেন: ‘তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা করো, কেননা ইমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে উত্তম কিছু কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৫৮) প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক তাঁর জীবনের ছয়টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তুলে ধরেছে।
প্রথমটি ঘুমের রুটিন: রাতের প্রথম প্রহরে ঘুমিয়ে শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ ও ফজরের জন্য জেগে ওঠা; ইশার পর অপ্রয়োজনীয় আলাপ তিনি পছন্দ করতেন না (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৮)। দ্বিতীয়টি পরিমিত আহার: পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি আর এক-তৃতীয়াংশ শ্বাসের জন্য রাখার নির্দেশ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৮০)।
তৃতীয়টি পানি পানের আদব: তিনি দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২০২৪) এবং বসে, পাত্রের বাইরে নিশ্বাস ছেড়ে তিন শ্বাসে ধীরে পানি পান করতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৩১)। চতুর্থটি মিসওয়াক: অজু, নামাজ, ঘুম থেকে ওঠা ও ঘরে ঢোকার সময় তিনি নিয়মিত মিসওয়াক করতেন (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৫)।
পঞ্চমটি কায়লুলাহ, দুপুরের খাবার বা জোহরের পর অল্প সময় বিশ্রাম (তাবারানি, হাদিস: ২৮৩৫)। ষষ্ঠটি দ্রুত ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপে হাঁটা; আবু হোরাইরা (রা.) বলেছেন, নবীজির চেয়ে দ্রুত কাউকে হাঁটতে দেখেননি (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৬৪৮)। তিনি তিরন্দাজি, কুস্তি ও দৌড়ের মতো শরীরচর্চাকেও উৎসাহ দিয়েছেন।
লেখায় আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সঙ্গে এসব অভ্যাসের মিলও দেখানো হয়েছে, যেমন দৈনিক ২০ থেকে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের জন্য উপকারী, আর দুপুরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বিশ্রাম মস্তিষ্কের সতর্কতা বাড়ায়।
ছবি: J.M.Garg / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)