শীতে গোয়ালে তোলার আগে দুগ্ধ খামারিদের বকনার ম্যাস্টাইটিস বা ওলানফোলা রোগের দিকে বিশেষ নজর রাখা উচিত, কারণ প্রথম দুগ্ধকালে এ রোগ হলে বকনার ওলানের স্বাস্থ্য সারাজীবন দুর্বল থাকে, লাভও কমে। এগ্রিল্যান্ডের প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আয়ারল্যান্ডে একটি বকনা বড় করতেই খরচ ১,৮০০ ইউরোর বেশি।
বেশির ভাগ খামারি বকনার ম্যাস্টাইটিস টের পান বাছুর দেওয়ার পর, যখন দুধে সোমাটিক কোষের সংখ্যা অস্বাভাবিক হয়। অথচ বেশির ভাগ সংক্রমণ বাছুর দেওয়ার আগেই উপসর্গহীন অবস্থায় থাকে এবং দুগ্ধকালের শুরুতে প্রকাশ পায়। অন্য কাজে বকনা ধরার সময়ই পরীক্ষা করলে দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায়, দোহনঘরেও অভ্যস্ত হয়; বাছুর দেওয়ার আগের সপ্তাহগুলোতে বাঁটে জীবাণুনাশক স্প্রের কথাও ভাবা যায়।
পরিচ্ছন্নতাই মূল। বিছানা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি: শোয়ার ঘর এমন মাপের হতে হবে যাতে পেছনে গোবর না জমে, নিয়মিত পরিষ্কার করে চুনের মতো নতুন উপকরণ দিতে হবে।
বিশেষ করে মৃদু আবহাওয়ায় মাছি দমন জরুরি, কারণ দুধ না দেওয়া পশুতেও গ্রীষ্মকালীন ম্যাস্টাইটিসে মাছির ভূমিকা আছে; গায়ে ঢালা বা ফোঁটা দেওয়া ওষুধ সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। পরিবেশ খারাপ হলে বাঁটের নালিতে ভেতরের সিল্যান্ট জীবাণু ঢোকার বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে।
বাছুর দেওয়ার পর দ্রুত প্রথম দোহন করলে ওলানের ফোলা কমে; পশুর চাপ কম রাখতে হবে, প্রথম সপ্তাহে চারটি বাঁটই পুরোপুরি খালি করতে হবে এবং দোহনের বিরতি নিয়মিত রাখতে হবে। নতুন বকনা বাছুরকে আগে ম্যাস্টাইটিসে আক্রান্ত গাভির দুধ খাওয়ানো যাবে না, যাতে জীবাণু তাদের গড়ে ওঠা ওলানে না যায়। যেকোনো চিকিৎসা খামারের পশুচিকিৎসকের সঙ্গে ঠিক করে নিতে হবে।
পরামর্শটি এগ্রিল্যান্ডের জন্য লিখেছেন ক্যাথাল ও’শে।
ছবি: Baykedevries / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Agriland




মন্তব্য
(০)