গ্রীষ্মের ফসলে আগাছা চোখে পড়ার অপেক্ষায় বসে থাকলে চলে না। বপন মৌসুমের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ফার্মার্স উইকলিকে এ কথা বলেছেন সিনজেন্টার এরিয়া সেলস ম্যানেজার থিউনিস মেইরিং (Theunis Meiring)। তাঁর মতে, ভুট্টা, সয়াবিন ও সূর্যমুখীর চারা গজানোর ঠিক আগে-পরের সময়টাই ফলনের বড় অংশ ঠিক করে দেয়।
মেইরিং বলেন, ভুট্টার ফলনের সম্ভাবনা ঠিক হয় তিন থেকে পাঁচ পাতার ধাপে। এই সময়ের সব চাপের মধ্যে আগাছাই সবচেয়ে ক্ষতিকর। পাঁচ পাতা (ভি৫) পর্যন্ত শতভাগ আগাছামুক্ত না রাখলে যে ক্ষতি হয়, তা আর ফেরানো যায় না; পরে আগাছা তুলে ফেললেও হারানো ফলন ফেরে না। তাই চারা গজানোর আগেই আগাছানাশক প্রয়োগকে তিনি সবচেয়ে জরুরি বলছেন। সয়াবিন ও সূর্যমুখীতেও একই নীতি, যদিও সংকটকাল আলাদা।
তাঁর পরামর্শ, আগাছা দমনকে একটানা কাজ হিসেবে দেখতে হবে, যা শুরু হয় আগের ফসল তোলার পরপরই। কিছু আগাছা তখনই দমন করতে হয়, পরে আর পারা যায় না। দুই মৌসুমের মাঝে কিছু আগাছা রেখে দিলে তা কাটুই পোকার মতো পোকার খাবার জোগায়, পরে সেই পোকা নতুন ভুট্টা ও সয়াবিনে হানা দেয়। তবে মাঠ একেবারে ন্যাড়া করাও ঠিক নয়: ফসলের অবশিষ্টাংশ ও মাটির আবরণ বাতাসে মাটির ক্ষয় কমায়, গবাদিপশুর খাবারও হয়।
কোন আগাছা মাঠে আছে, সেটা চেনাই প্রথম কাজ, কারণ অঞ্চলভেদে সমস্যার প্রজাতি আলাদা। মেইরিং মুথা ঘাসকে বড় সমস্যা বলেছেন, সঙ্গে নটে জাতীয় অ্যামারান্থাস প্রজাতির কথাও। কিছু প্রজাতি উপযুক্ত আগাছানাশকে এখনো দমন হয়, কিন্তু অ্যামারান্থাস পালমেরি (Amaranthus palmeri)-র কিছু জনগোষ্ঠী কয়েক শ্রেণির আগাছানাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। তিনি একে সুপারউইড বলছেন, যা একবার গজালে দমন খুব কঠিন।
বপনের আগে মাঠ ঘুরে দেখার এবং কোনো আগাছানাশকের ওপর ভরসা করার আগে তার সর্বশেষ নিবন্ধন যাচাইয়ের পরামর্শ দেন তিনি, কারণ আগে ব্যবহৃত কিছু পণ্যের নিবন্ধন আর নেই। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন অক্টাভিয়া আভেসকা স্পানডিয়েল।
ছবি: Yercaud-elango / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)