বিশ্বজুড়ে ড্রাগন ফলের বাজার দ্রুত বাড়লেও দক্ষিণ আফ্রিকার চাষিরা পুঁজির সংকট, অনিশ্চিত আবহাওয়া, দেশি ক্রেতাদের নেতিবাচক ধারণা এবং কঠোর পরিবেশ বিধিতে আটকে আছেন, জানিয়েছে ফুড ফর মজানসি। মার্কেনটেল অ্যাডভাইজার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক বাজারের আকার ছিল প্রায় ৬৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা ২০৩০ সালে ৯৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ওয়ান্ডারফুল ড্রাগন ফ্রুটের কর্নেলিয়াস আন্দ্রিয়াস ফান হিরডেন বলেন, এই ক্যাকটাস শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া এবং এল নিনোর বছরে ভালো হয়, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা ও জাম্বিয়ায় ভালো ফলন দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক কৃষকের জমি, আগ্রহ ও দক্ষতা আছে, কিন্তু শুরু করার অর্থায়ন পুরোপুরি থেমে আছে।
আমোরেন্তিয়া এস্টেট অ্যান্ড নার্সারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লরেন স্ট্রিভার বলেন, দেশটির উপক্রান্তীয় এলাকায় ফসলটি নিয়ে প্রথম দিকের প্রত্যাশা সম্ভবত বেশি আশাবাদী ছিল: খরা কিছুটা সহ্য করলেও খুব ভেজা গ্রীষ্মে বৃষ্টি ও আর্দ্রতায় ফুল ও ফল ধরা ব্যাহত হয়। দেশের দোকানে এখনো পুরোনো, স্বাদহীন সাদা ফলের আধিপত্য, আর মিষ্টি লাল, গোলাপি ও সাদা জাতের ফল বেশির ভাগই রপ্তানি হয়। তাঁর মতে, শুধু চারা লাগিয়ে বাজার তৈরি হয় না, উৎপাদনের সঙ্গে বাজারও গড়তে হয়।
বিধিনিষেধও বড় বাধা। দেশটির জীববৈচিত্র্য আইনের বিদেশি ও আগ্রাসী প্রজাতি বিধিতে হাইলোসেরিয়াস আনডাটাস ও এর সংকরকে দ্বিতীয় শ্রেণির প্রজাতি ধরা হয়, ফলে গাছ রাখা, চারা তৈরি বা বিক্রির জন্য অনুমতিপত্র লাগে। স্ট্রিভার বলেন, বাণিজ্যিক চাষে ফসলটি সত্যিই আগ্রাসী আচরণ করছে, এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ তাঁরা পাননি, তাই প্রকৃত পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে দেশীয় গবেষণা দরকার।
ছবি: VinetVas17 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)