মাত্র দুই ঘণ্টার হাটে কেনাবেচা প্রায় ৭০ লাখ টাকা—কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পান হাটের চিত্র এমনই। কৃষি সময়ের কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহের শনি ও বুধবার দীর্ঘদিন ধরে চলা এ হাটে স্থানীয় ও আশপাশের উপজেলার পানচাষিরা পান বিক্রি করতে আসেন, আর দূর-দূরান্তের পাইকারেরা তা দেশের নানা প্রান্তে নিয়ে যান।
পাকুন্দিয়া পৌর পান বাজারে ভোরের আলো ফোটার আগেই ব্যস্ততা শুরু হয়—কারও হাতে পানের বিরা, কেউ দরদামে, কেউ বরজ থেকে তোলা পান সাজিয়ে বসেছেন; সকাল গড়ানোর আগেই হাট শেষ। এই দুই ঘণ্টায় পাটমহালে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়, আর শীত মৌসুমে চাহিদা ও দাম বাড়লে হাটপ্রতি বেচাকেনা কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। মাথায়, ভ্যানে ও অটোরিকশায় পান আসে; বিক্রি শেষে বস্তা ও আঁটি নিয়ে অটোরিকশা ও পিকআপ ছোটে ঢাকা, গাজীপুর, কটিয়াদী, নরসিংদী ও ময়মনসিংহের বাজারে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চরফরাদী, এগারসিন্দুর, হোসেন্দী, নারান্দী ও সুখিয়া ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বরাটিয়া, হিজলীয়া, লক্ষীয়া ও সৈয়দগাঁওয়ে প্রায় ৬৫ হেক্টরে পানের আবাদ রয়েছে; সারা বছর লাল ডিঙ্গি ও গয়েসুর জাতের পান হয়। পাইকারদের ভাষ্য, পাকুন্দিয়ার পানের মান ভালো, বিশেষ করে এ দুই জাতের চাহিদা বেশি, আর যোগাযোগ সহজ বলে দূরের পাইকারেরাও নিয়মিত আসেন। ভালো মানের এক কুড়ি (২০ বিরা; এক বিরায় ১২০টি পান) এখন ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা।
পান ব্যবসায়ী শুভ চক্রবর্তী জানান, নিজেদের আড়ত থেকে পাকুন্দিয়ার পান কটিয়াদী, ভৈরব, নরসিংদী, করগাঁও ও নিকলীতে বিক্রি করেন; নানা জাত ও মানের পান মেলে বলে দীর্ঘদিন এ হাটের ওপর নির্ভরশীল তিনি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর-ই-আলম বলেন, পান একটি লাভজনক কৃষিপণ্য; বছরজুড়ে বিক্রি করে কৃষকেরা আয় করছেন বলে চাষের পরিধি দিন দিন বাড়ছে, এবং কৃষি বিভাগ চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে।
প্রতিবেদন: কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)