ঘানার গবেষকেরা দশ দেশের ৮১টি ঢেঁড়স জাতের জিনগত পরিচয় বের করে দুই বছরের মাঠের ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়েছেন। এতে তৈরি হয়েছে একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার, যা দেখিয়ে দেয় বেশি ফলনের নতুন জাত তৈরিতে কোন জাতগুলো মা-বাবা হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত। গবেষণাটি জুন ২০২৬-এ ডিসকভার অ্যাগ্রিকালচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
নেতৃত্ব দেন ঘানা বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম আফ্রিকা ফসল উন্নয়ন কেন্দ্রের (WACCI) জাসিন্টা আদোমা ওপোকু (Jacinta Adoma Opoku)। সঙ্গে ছিলেন ঘানার সিএসআইআর-ফসল গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঘানার কোকো গবেষণা ইনস্টিটিউট ও উগান্ডার জাতীয় ফসল সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও আমেরিকার কিছু অংশে ঢেঁড়স ক্ষুদ্র চাষির প্রধান সবজি, অথচ আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এতে প্রধান দানাশস্যের তুলনায় অনেক কম।
৮১টি জাত এসেছে ঘানা, নাইজেরিয়া, উগান্ডা, সেনেগাল, ভারত, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম থেকে। কুমাসির কাছে ফুমেসুয়ায় সিএসআইআর-ফসল গবেষণা ইনস্টিটিউটের খামারে ৯x৯ আলফা ল্যাটিস নকশায় প্রতিটি জাত তিনটি প্লটে লাগানো হয়। ফলন, গাছের উচ্চতা, কাণ্ডের বেড় ও ফুল আসার দিনসহ ১৬টি পরিমাপযোগ্য বৈশিষ্ট্য এবং কাণ্ড ও ফলের রঙের মতো আরও ১০টি বৈশিষ্ট্য মাপা হয়।
একই জাতগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা হয় ডার্টসেক (DArTseq) পদ্ধতিতে, যা জিনোমের ছোট ছোট পার্থক্য বা এসএনপি খুঁজে বের করে। এগুলো জিনগত চিহ্ন বা মার্কার হিসেবে কাজ করে। বাছাইয়ের পর মিলেছে ১৯,৯৫১টি উচ্চমানের মার্কার। মাঠের বৈশিষ্ট্য আর ডিএনএ, দুই ভিত্তিতে ভাগ করলেও জাতগুলো মোটামুটি একই চারটি বড় দলে পড়েছে। ফলে বহু মৌসুমের মাঠ পরীক্ষার ওপর পুরো নির্ভর না করে সস্তা ও দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষাতেই প্রজননবিদ বুঝতে পারবেন কোন জাতগুলোর মধ্যে সংকরায়ণ কাজে দেবে।
বৈচিত্র্যও অনেক। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৫০৪ থেকে ৩,১৩৯ কেজি, ফুল আসতে সময় লাগে ৩৭ থেকে ৮২ দিন। গাছের উচ্চতা, ফলের ওজন, কাণ্ডের বেড় ও শতবীজের ওজনে উচ্চ বংশগতি ও উচ্চ জিনগত অগ্রগতি দেখা গেছে, অর্থাৎ কয়েক প্রজন্মেই বাছাইয়ের সুফল মিলতে পারে। আগে ফুল আসা ও বেশি ফলনের সম্ভাবনা মিলিয়ে গবেষকেরা JKOH540, Asontem 2, Asontem 4, JA2133 ও CRI-OFK জাতকে প্রজননের ভালো মা-বাবা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এটি প্রচলিত মার্কারনির্ভর প্রজনন। কোনো জিন ঢোকানো বা সরানো হয়নি, মার্কার শুধু দেখায় কোন প্রাকৃতিক জাতের মধ্যে সংকরায়ণ করা উচিত। তাই জিএম ফসলের মতো নিয়ন্ত্রক বাধা নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের জাতও এই সংগ্রহে থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রজননবিদরাও তথ্যভান্ডারটি কাজে লাগাতে পারবেন। শুধু ভারতেই কয়েক মিলিয়ন হেক্টরে ঢেঁড়স (ভিন্ডি) চাষ হয়।
ছবি: Sir Amugi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)