ইলিশ মানেই দক্ষিণের নদী, এই ধারণার বাইরে উত্তরের তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রেও ধরা পড়ছে ইলিশ। রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটের ১১টি উপজেলায় এখন ইলিশ মিলছে, যদিও পরিমাণ এখনো কম। মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই তিন জেলায় বছরে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টন ইলিশ ধরা পড়ে; গত মৌসুমে পড়েছিল ৪৮ টন।
উপজেলাগুলো হলো কুড়িগ্রামের সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর; গাইবান্ধার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি এবং লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা। ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞায় তিন জেলার ১ হাজার ৬০০ জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা নদীতে ফিরলেও নৌকার অভাবে অনেকে নামতে পারছেন না।
কর্মকর্তাদের মতে বড় বাধা নাব্য সংকট। কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, নাব্যের পাশাপাশি জেলেদের কারিগরি সহায়তারও ঘাটতি আছে, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাঁচ থেকে সাত বছর আগেও তিস্তার গঙ্গাচড়ার মহিপুরে ইলিশ মিলত, এখন প্রায় মেলে না। অবসরপ্রাপ্ত মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা জুবায়ের আলীর ভাষায়, তিস্তা যখন খরস্রোতা ছিল তখন সাগর থেকে ইলিশ ডিম ছাড়তে আসত; নাব্য ফেরানো ছাড়া বিকল্প নেই।
জেলেদের হিসাবও কঠিন। কুড়িগ্রামের জেলে কাঞ্চন কুমার জানান, একবার মাছ ধরতে গেলে অন্তত ২ হাজার টাকা খরচ, সঙ্গে নৌকাভাড়া; যে মাছ মেলে তাতে খরচ ওঠে না। তাঁর হিসাবে ব্রহ্মপুত্রে আধা কেজির কম ইলিশ কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বড় ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাতীবান্ধার তিস্তাপাড়ের জেলে আব্দুল গনি জানান, এ বছর তাঁরা তিস্তা থেকে মাত্র ১৫ কেজি ইলিশ পেয়েছেন।
রংপুর মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, নাব্য সংকটে ইলিশসহ দেশীয় মাছ কমছে; সরকার তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র খননের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে, আর খনন হলে ইলিশসহ দেশি মাছের বিচরণ বাড়বে বলে আশা।
উত্তরের নদীপাড়ের জেলেদের জন্য এর মানে হলো, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে এবং নৌকা ও জাল মিললে ইলিশ নতুন আয়ের উৎস হতে পারে। খবরটি বাংলা নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদন থেকে।
ছবি: Ahamed Rafid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)