সৌরচালিত সেচপাম্প চান উত্তর নাইজেরিয়ার কৃষকেরা। কিন্তু কৃষক, পাম্প সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার মধ্যে দুর্বল যোগাযোগের কারণে এই প্রযুক্তি ছড়াচ্ছে ধীরে। সিজিআইএআরে প্রকাশিত এক লেখায় এ কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IFPRI, আইএফপিআরআই) গবেষকেরা।
লেখকেরা সমস্যাটিকে বলছেন "হারানো মধ্যস্তর", অর্থাৎ পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। এর সমাধান খুঁজতে জিগাওয়া (Jigawa) রাজ্যে চাহিদা ও সরবরাহ পক্ষকে এক জায়গায় আনা হয়। সেখানে তথ্য বিনিময় হয়েছে, অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে এবং সৌরসেচ বাড়ানোর সুযোগ চিহ্নিত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় বাধা রয়ে গেছে অর্থায়নে। গবেষকদের ভাষ্য, কৃষকের আগ্রহ প্রবল, তবে দরকার সাশ্রয়ী ঋণ এবং ফসলের চক্রের সঙ্গে মিলিয়ে ঋণ শোধের ব্যবস্থা।
নাইজেরিয়ার জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ ও কর্মসংস্থানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা থেকে। অথচ উৎপাদন প্রায় পুরোটাই বৃষ্টিনির্ভর, ফলে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ কৃষক পরিবার অনিয়মিত জলবায়ুর ঝুঁকিতে। দেশটির প্রায় ৩১ লাখ হেক্টর সেচযোগ্য জমির মাত্র ৩ শতাংশের মতো সেচের আওতায় এসেছে।
দেশের ৬০ শতাংশের বেশি কৃষক পরিবারের বাস উত্তরে। সেখানে এই প্রযুক্তির জন্য তিনটি সুবিধা আছে: প্রচুর রোদ, অগভীর ভূগর্ভস্থ পানি এবং গ্রিড ছাড়া চলে এমন সস্তা পাম্পের বিপুল অপূর্ণ চাহিদা। ডিজেল ও পেট্রলের দামের ওঠানামার মধ্যে সৌরসেচ সারা বছর উৎপাদন ও খরা মোকাবিলার জলবায়ুবান্ধব পথ হতে পারে বলে মনে করেন লেখকেরা।
প্রতিবেদক: হায়াসিন্থ এদেহ, বেদরু বালানা, মরিয়ম আবদুল্লাহি ও অলিভার কিপতু কিরুই (IFPRI)।
ছবি: SMMIMAGES / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: CGIAR



মন্তব্য
(০)