জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদনে জালিয়াতি ঠেকাতে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যবস্থাটি চালু হলে অন্যের নামে নিবন্ধিত নম্বর দিয়ে কেউ এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন না। নম্বর যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ইসি সূত্র জানায়, এখন একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে আটটি এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যায়। নতুন ব্যবস্থায় এক নম্বরে কেবল সেই নম্বরের মালিকের আবেদন করা যাবে। অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে বিটিআরসির তথ্যভান্ডারে নম্বরগুলো যাচাই করা হবে। দেশের বাইরে থেকে যাঁরা সংশোধনের সেবা নেন, তাঁদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা-ও ভাবছে ইসি।
ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা মেইলকে বলেন, বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা শেষ হলেই নিজের নামে নিবন্ধিত নম্বর দিয়ে আবেদনের পদ্ধতি চালু করা হবে।
উদ্যোগটির পেছনে আছে গত ২৫ আগস্ট ঢাকা মেইলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন। তাতে দেখা যায়, ২০২০ সালের ৫ মার্চ মারা যাওয়া আলী আকবর নামের এক ব্যক্তির নামে ২০২৬ সালে ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে নাম সংশোধনের আবেদন জমা পড়েছে, সঙ্গে মৃত্যু সনদসহ নানা কাগজ। ইসি সূত্র বলছে, প্রতারক চক্র প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই আবেদন করে দিচ্ছে।
নিবন্ধন ও সংশোধন দ্রুত করতে কাগজপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের জন্য বিটিআরসিসহ নয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এপিআই সংযোগের আলোচনাও চলছে। এর মধ্যে আছে বিআরটিএ, বিএমইটি, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা এবং বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগ। ইসি সংশোধনের আবেদন ক, ক-১, খ, খ-১, গ ও ঘ, এই ছয় ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তি করে।
ভোটার তালিকা আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা তথ্য গোপন করে এনআইডি নিলে এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা দুটিই হতে পারে। সংশোধনের আবেদনের আগে নিজের নামে মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত আছে কি না, তা মিলিয়ে নেওয়াই এখন নাগরিকদের জন্য প্রথম কাজ। প্রতিবেদনটি ঢাকা মেইলের মো. মেহেদী হাসান হাসিবের।
ছবি: Nurhossain46 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ঢাকা মেইল





মন্তব্য
(০)