শত শত বছর ধরে গরু পালনের দেশ নেদারল্যান্ডসে কৃষকেরা এখন ভেজা পিটভূমিতে ধান চাষের পরীক্ষা করছেন, যা দেশটির নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় একসময় অকল্পনীয় ছিল, এএফপির সঙ্গে মিলে জানিয়েছে ইউরোনিউজ। গবেষকদের আশা, এতে দেশের অন্যতম বড় পরিবেশ সমস্যা, শুকিয়ে বসে যাওয়া পিটমাটির সমাধান মিলতে পারে।
নেদারল্যান্ডসের প্রায় এক-দশমাংশ জমি পিটভূমি, যেখানে গরুর ঘাস চাষের জন্য কৃষকেরা পানি নিষ্কাশন করেন। পিট শুকালে লাখ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয় এবং সবচেয়ে খারাপ এলাকায় জমি বছরে কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত বসে যায়। ভাগেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে দেশের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ২ থেকে ৩ শতাংশ আসে পিটমাটি থেকে। মাঠ ভেজা রাখলেই এ চক্র থামে, কিন্তু এত দিন সেখানে চাষ করার মতো কিছু ছিল না।
আমস্টারডাম ও হেগের মাঝে লান্ড ফান ওনস সংগঠনের দেওয়া মাত্র ০.৬ হেক্টর জমিতে প্রকল্পটি চলছে, লক্ষ্য প্রায় তিন টন ছোট দানার চাল। রাশিয়া, চীন, জাপান ও উজবেকিস্তানের প্রায় ৩০টি জাত পরীক্ষা করা হচ্ছে; উত্তর জাপানের একটি জাত সবচেয়ে মানানসই মনে হচ্ছে। কৃষক সান্ডার রুলেভেল্ড বলেন, তিনি দেখাতে চান ভেজা জমিতে ঘাস ছাড়াও আরও অনেক কিছু হতে পারে।
ভাগেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ইউলিয়ান হেলফেনস্টাইন লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীদের সঙ্গে প্রকল্পটি চালাচ্ছেন। তাঁর মতে, ধান একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও তা প্রশমনের বিরল সুযোগ, কারণ ভেজা মাঠে পিটের ক্ষয় থামে। চিকিৎসা যেন রোগের চেয়ে খারাপ না হয়, সে জন্য ঘাসের জমির সঙ্গে তুলনা করে ধানক্ষেতের কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন মাপা হচ্ছে, আর এখন পর্যন্ত ফল আশাব্যঞ্জক। জার্মানি, বেলজিয়াম ও বাল্টিক দেশগুলোতেও পিটের একই সমস্যা আছে বলে জানান তিনি।
টেকসই চাষে কৃষকদের সহায়তাকারী সংগঠন ভেই লান্ডের খুসিয়ে ফান ডের ফসেন জানান, স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলো ডাচ চাল নিতে আগ্রহী। লান্ড ফান ওনসের চেয়ারম্যান ফিলিপ তেরহেগেন বলেন, ২০ বছর আগে নেদারল্যান্ডসে ধান চাষের কথা কেউ ভাবেননি, তবে জলবায়ু বদলে যাওয়ায় কী কী সম্ভব হচ্ছে, তা ভয়েরও কারণ।
ছবি: Kinori / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)