ইসলামে প্রতিবেশী কেবল একই ধর্ম, গোষ্ঠী বা রক্তের সম্পর্কের মানুষ নন। মুসলিম হোন বা অমুসলিম, ধনী বা দরিদ্র, যিনি কাছাকাছি থাকেন তিনিই প্রতিবেশী, আর তাঁর সঙ্গে সদ্ভাব রাখা পূর্ণ ইমানের দাবি। প্রথম আলোর ধর্ম পাতার এক লেখায় কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রতিবেশীর ছয়টি অধিকারের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সুরা আন-নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে তিন ধরনের প্রতিবেশীর উল্লেখ আছে: নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী এবং পাশের সঙ্গী, যেমন সহপাঠী, সহকর্মী বা সফরের সহযাত্রী। রাসুল (সা.) বলেছেন, জিবরাইল (আ.) তাঁকে প্রতিবেশীর অধিকারের কথা এত বারবার বলতেন যে তাঁর মনে হতো প্রতিবেশীকে হয়তো উত্তরাধিকারী করে দেওয়া হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০১৪)।
প্রথম অধিকার সম্মান: যে আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে সম্মান করে (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০১৮)। দ্বিতীয়টি কষ্ট না দেওয়া: আশপাশে ময়লা ফেলা, যৌথ জায়গা নোংরা রাখা বা উচ্চ শব্দে বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটানোও কষ্ট দেওয়া। যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে মুমিন নয় বলে সতর্ক করেছেন রাসুল (সা.) (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০১৬)।
তৃতীয় অধিকার দুর্ব্যবহারে ধৈর্য: মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের দেওয়া কষ্টে যে ধৈর্য ধরে, সে উত্তম (সুনানে তিরমিজি, হাদিস ২৫০৭)। চতুর্থটি অভাবের খোঁজ রাখা: প্রতিবেশী অভুক্ত জেনেও যে নিজে তৃপ্ত হয়ে রাত কাটায়, তার ইমান নিয়ে কঠোর কথা বলেছেন রাসুল (সা.) (আল-মুজামুল কবির, হাদিস ৭৫১)।
পঞ্চম অধিকার বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে সম্প্রীতি রক্ষা, যার নির্দেশ এসেছে সুরা হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতে। ষষ্ঠটি উপহার আদান-প্রদান: সামান্য উপহারকেও তুচ্ছ না ভাবা (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৫৬৬), তরকারির ঝোল একটু বাড়িয়ে প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬২৫) এবং যার দরজা সবচেয়ে কাছে তাকে আগে দেওয়া (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০২১)।
লেখার মূল কথা, বিপদে-আপদে আত্মীয়ের আগে প্রতিবেশীই পাশে আসেন। তাই প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়, ইসলামের দৃষ্টিতে তা ইমানেরই অংশ।
ছবি: Techtr14 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)