মহানবী (সা.)-এর জীবনের তিনটি ঘটনা ধরে ধৈর্য ও আশার শিক্ষা তুলে ধরেছে প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের সিরাতবিষয়ক এক লেখা।
প্রথম ঘটনা তায়েফের। তাওহিদের দাওয়াত নিয়ে তিনি সেখানে গেলে সর্দারেরা শহরের বখাটেদের তাঁর পেছনে লেলিয়ে দেয়, পাথরের আঘাতে তিনি রক্তাক্ত হন। শহরের উপকণ্ঠে একটি আঙুরবাগানে আশ্রয় নেওয়ার পর জিবরাইল (আ.) পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাকে নিয়ে এসে অনুমতি চাইলেন দুই পাহাড় এক করে তায়েফবাসীকে ধ্বংস করার। তিনি প্রতিশোধ নেননি; বরং আশা করেছেন, তাদের বংশধরদের মধ্যে এমন প্রজন্ম আসবে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩২৩১)। লেখার শিক্ষা: নিপীড়নের জবাবে ক্ষমা ও কল্যাণকামিতা।
দ্বিতীয় ঘটনা হিজরতের সময়ের। কোরাইশদের হত্যা-চক্রান্ত এড়িয়ে তিনি ও আবু বকর (রা.) মদিনার বিপরীত দিকের সাওর গুহায় আশ্রয় নেন। আবু বকরের কন্যা আসমা (রা.) রাতের আঁধারে খাবার পৌঁছে দিতেন। খুঁজতে খুঁজতে শত্রুরা গুহামুখে চলে এলে আবু বকর (রা.) শঙ্কিত হন, আর নবীজি শান্ত কণ্ঠে বলেন, যে দুজনের তৃতীয় জন আল্লাহ, তাদের নিয়ে তোমার কী ধারণা (সুরা তওবা, আয়াত ৪০; সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩)। শিক্ষা: সংকটে আল্লাহর ওপর অটল ভরসা।
তৃতীয় ঘটনা খন্দকের। শত্রুবাহিনী মদিনা ঘেরাও করতে এলে সাহাবিরা প্রচণ্ড শীত আর অনাহারের মধ্যে পরিখা খুঁড়ছিলেন। এক বিশাল পাথর কোদালে ভাঙছিল না। নবীজি নিজে কোদাল তুলে তিন আঘাতে পাথরটি ভাঙেন এবং প্রতিটি আঘাতে শাম, পারস্য ও ইয়েমেনের বিজয়ের সুসংবাদ দেন (সুনানে নাসায়ি, হাদিস ৩১৭৫)।
লেখায় শেষে বলা হয়েছে, চারপাশে অনিশ্চয়তা আর ক্ষুধা থাকলেও নবীজি সাহাবিদের মনে আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন। সংকট যত বড়ই হোক, মুমিনের আশা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিভে যায় না।
ছবি: Mohammed Tawsif Salam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)