ভুট্টার সাইলেজনির্ভর খাদ্যে বাড়ন্ত গরুর আমিষের ঘাটতি পূরণে ভাজা সয়াবিন কাজে আসতে পারে বলে ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা-লিংকনের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে। ডিস্টিলার্স গ্রেইন দুর্লভ বা দামি হলে এটি খামারিদের বিকল্প হতে পারে বলে জানিয়েছে ফার্মস ডটকম।
নেব্রাস্কা এক্সটেনশনের শিক্ষক এরিন লাবোরি জানান, ভুট্টার সাইলেজে সাধারণত ৬.৫ থেকে ৮.৫ শতাংশ অপরিশোধিত আমিষ থাকে, যার বেশির ভাগ পাকস্থলীর রুমেনেই অণুজীবেরা ভেঙে ফেলে। মাত্র ১৬ শতাংশের মতো আমিষ রুমেন পেরিয়ে অন্ত্রে হজম হয়, যা অণুজীবজাত আমিষের সঙ্গে মিলে গরুর বৃদ্ধির জন্য দরকারি আমিষ জোগায়। এটি কম পড়লে বৃদ্ধি আটকে যায়।
এ কারণে সাধারণত ডিস্টিলার্স গ্রেইন মেশানো হয়, কারণ এর আমিষের প্রায় ৬৩ শতাংশ রুমেনে ভাঙে না। কিন্তু এর দাম ও সরবরাহ ওঠানামা করে। সয়াবিনে প্রায় ৪০ শতাংশ আমিষ ও চর্বি থাকে; কাঁচা সয়াবিনে রুমেন এড়িয়ে যাওয়া আমিষ প্রায় ২০ শতাংশ হলেও ভেজে নিলে তা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি হতে পারে।
গবেষকেরা ৮৪ দিন ধরে বাড়ন্ত বকনা বাছুরদের সাইলেজভিত্তিক খাদ্যে কাঁচা গোটা সয়াবিন, ভাজা সয়াবিন অথবা মডিফায়েড ডিস্টিলার্স গ্রেইন দিয়েছেন, প্রতিটি শুষ্ক খাদ্যের ৭, ১৪ ও ২১ শতাংশ হারে।
ডিস্টিলার্স গ্রেইন খাওয়া বকনারা সবচেয়ে বেশি খেয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ওজন বাড়িয়েছে, তবে ভাজা সয়াবিন খাওয়া বকনারা খাবারকে সবচেয়ে দক্ষভাবে ওজনে রূপান্তর করেছে। তিন ধরনের আমিষেই ২১ শতাংশ হারে দিলে সাধারণত ১৪ শতাংশের চেয়ে বেশি ওজন ও ভালো খাদ্যরূপান্তর দেখা গেছে।
গবেষকদের মতে, বাড়ন্ত গরুর খাদ্যে সয়াবিন আমিষ ও চর্বি দুটোই জোগাতে পারে। রুমেন এড়িয়ে যাওয়া আমিষ বেশি থাকায় ভাজা সয়াবিন কিছুটা এগিয়ে, তবে দাম ও প্রাপ্যতায় ডিস্টিলার্স গ্রেইনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারলে কাঁচা গোটা সয়াবিনও বিবেচনা করা যায়।
ছবি: Peter Van den Bossche / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)