যুক্তরাষ্ট্রের শূকরের বাজার মিশ্র সংকেত দিচ্ছে: খামারিরা পাল বাড়াচ্ছেন না বলে সরবরাহ কমছে, অথচ ফিউচার বাজারে দাম কমা বলছে, সরবরাহ যত কমছে তার চেয়ে দ্রুত কমছে শূকরের মাংসের চাহিদা। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের অর্থনীতিবিদ বার্ন্ট নেলসন তাঁদের মার্কেট ইন্টেল বিশ্লেষণে এ কথা লিখেছেন।
ইউএসডিএর সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে ১ সেপ্টেম্বর শূকরের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৪৩ লাখ, যা এক বছর আগের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ কম। প্রজননক্ষম শূকর ৫৮ লাখ ৭০ হাজার, ১ শতাংশ কম এবং ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে কম; জুন-আগস্টে জন্মানো শাবক ৩ কোটি ৪৫ লাখ, প্রায় দেড় শতাংশ কম। নেলসনের মতে, এতে পাল বাড়ানোর লক্ষণ নেই, আবার সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার মতো ব্যাপক পাল ছাঁটাইও নেই।
ভারী শূকরই সরবরাহ ধরে রাখছে। আগস্টে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিদর্শিত জবাই ২.১ শতাংশ কমে প্রায় ৯৯ লাখে নেমেছে, কিন্তু গড় ওজন প্রায় ৩ পাউন্ড বেড়ে ২১২ পাউন্ড হওয়ায় মাংস উৎপাদন কমেছে ১ শতাংশেরও কম। ইউএসডিএ ২০২৬ সালে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি পাউন্ড উৎপাদনের আশা করছে, যা ২০২৫ সালের চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ বেশি। হিমাগারে শূকরের মাংসের মজুতও ১২ শতাংশ বেশি।
উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ রপ্তানি হয়, আর সেখানে চাপ বাড়ছে। ইউএসডিএ ২০২৬ ও ২০২৭ সালের রপ্তানি পূর্বাভাস কমিয়ে যথাক্রমে ৭১১ কোটি ও ৭১৯ কোটি পাউন্ড করেছে। রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ যায় মেক্সিকোতে, যেখানে জুলাইয়ে চালান ২ শতাংশ কমেছে, কারণ দেশটির নিজস্ব উৎপাদন বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ, স্পেনসহ ইউরোপীয় সরবরাহকারীরা বাজার নিচ্ছে।
দামেও এর প্রতিফলন: আগস্টে জীবন্ত শূকরের গড় দাম ছিল হান্ড্রেডওয়েটপ্রতি ৬৯.৪৩ ডলার, এক বছর আগের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ কম। ইউএসডিএর পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে দাম প্রায় ৬৫ ডলার, ২০২৭ সালে ৬৪ ডলার, ফলে অনেক খামারি লাভ-ক্ষতির সীমানায়। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের হিসাবে ২০২৭ সালে শূকরের খাদ্যের খরচ প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। পরিচালন খরচের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই খাদ্য, তাই দাম কমা আর খাদ্যের খরচ বাড়া একসঙ্গে ঘটলে দ্রুত পাল ছাঁটাই শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নেলসন।
ছবি: Phillip Capper / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: American Farm Bureau Federation





মন্তব্য
(০)