চারা লাগানো হয় এক দিনে, কিন্তু বাঁচিয়ে রাখতে হয় দিনের পর দিন। এই ভাবনা থেকে নাটোরে শিশুদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়েছে এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। কর্মসূচির নাম 'ট্রি গার্ডিয়ান': শিশুদের বলা হয়েছে, গাছটি শুধু তাদের নয়, তারা এর অভিভাবক।
কর্মসূচি শুরু হয় ৬ জুন, প্রত্যয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে। এরপর বড়গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাটোর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বনবেলঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গ্রীন একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন হয়। তিন মাস পর ২০ আগস্ট মরিয়ম স্কুলের মাঠে শেষ ধাপে শিশুদের হাতে চারা দেওয়া হয়।
এর মাঝে ২৭ জুলাই নাটোর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে পথচারী, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের হাতে প্রায় দুই হাজার চারা দেওয়া হয় এবং তাঁদের 'জলবায়ুযোদ্ধা' বলা হয়। সব মিলিয়ে কর্মসূচিতে ১০ হাজার মানুষের হাতে চারা পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা। চারাগুলোর বেশির ভাগই দেশি প্রজাতির।
দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অভাব নেই, কিন্তু উদ্বোধনের দিনের ছবি তোলার পর অনেক চারার আর খোঁজ থাকে না। ফাউন্ডেশন তাই রোপণের পরের যত্নকেও পরিকল্পনায় রেখেছে: নিয়মিত পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা আর গরু-ছাগলের হাত থেকে চারা রক্ষা করা শিশুদেরই দায়িত্ব। প্রতি তিন মাসে স্কুলভিত্তিক পর্যবেক্ষণ হবে, আর বছর শেষে যত্নে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা শিশুদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হবে 'সেরা ট্রি গার্ডিয়ান'।
প্রতিটি আয়োজনে শিশুদের সহজ ভাষায় জলবায়ু পরিবর্তন, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি ও গাছের প্রয়োজনের কথা বোঝানো হয়েছে। বড়গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ বলেন, একটি শিশুর হাতে একটি গাছ তুলে দেওয়া মানে ভবিষ্যৎ নাগরিকের মনে প্রকৃতির বীজ বোনা।
কর্মসূচির উপদেষ্টা মো. জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, গাছ লাগানো ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ, যার ফল পেতে সময় লাগে; সেই সময় পর্যন্ত গাছ যত্নে রাখার দায়িত্ব এখন শিশুদের হাতে। চারা টিকে থাকার হার যেখানে বৃক্ষরোপণের বড় প্রশ্ন, সেখানে রোপণের পর নিয়মিত খোঁজ রাখার এই ধরনটি অন্য এলাকার স্কুলেও কাজে লাগতে পারে।
প্রতিবেদনটি জাগো নিউজ ২৪-এর জন্য লিখেছেন তানজিদ শুভ্র।
ছবি: বাংলাদেশের একটি চারাগাছ, Taufiq rahaman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)