ঋতুর সঙ্গে হাওরের রূপও বদলায়, আর সেই বদলের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে উদ্ভিদের বৈচিত্র্য। এমন বৈচিত্র্যের খোঁজে প্রায়ই সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে যান প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন। দেশ রূপান্তরে লেখা এক নিবন্ধে তিনি সেখানে লতাফুটকি খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতা লিখেছেন।
সোলেমানপুর বাজার থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় দেড় ঘণ্টা চলার পর একটি হিজলবনে থামেন তিনি; হুড়হুড়ি আর ঘাগরার পাশে পান গোলাপের একটি ঝাড়। এরপর গোলাবাড়ি ক্যাম্প লাগোয়া বাঁধ ধরে হাঁটা। হাওরের এদিকটা নির্জন, হিজল, করচ আর বরুনের দীর্ঘ সারি, পাশের ঢালে নানা লতার ঘন বুনন। সেখানে মেলে দুর্লভ বুনো স্ট্রবেরির ফুল ও ফল, আর তার পাশে মাটিতে গড়ানো এক লতায় ফটকার মতো দেখতে কিছু ফল।
লেখকের ভাষ্য, ফটকা গাছ বীরুৎ শ্রেণির, অথচ এটি লতানো; প্রায় একই রকম লতা তিনি দেখেছিলেন নিউইয়র্কের ব্রুকলিন বোটানিক গার্ডেনে। ঢাকায় ফিরে উদ্ভিদবিষয়ক বই ঘেঁটে জানা যায় এর নাম লতাফুটকি (Cardiospermum halicacabum)। স্থানীয়ভাবে ফুটকা, কপালফুটকি, নোয়াফুটকি, কানফুটকি নামেও পরিচিত। হাওরের পানি শুকিয়ে গেলে প্রতিবছর এটি প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায়।
লতাফুটকি বর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী লতা। পাতা তিন খণ্ডে বিভক্ত, পত্রবৃন্ত ২-৪ সেন্টিমিটার লম্বা। ছোট ফুল ২ থেকে সাড়ে ৩ মিলিমিটার, চারটি বৃত্যংশ লাল দাগওয়ালা সবুজ, পুংকেশর আটটি। ফল তিন খণ্ডের গোলাকার, দেড় থেকে ৪ সেন্টিমিটার চওড়া, সবুজ, গোড়া লালচে, রোমশ; ভেতরে ছোট, কালো, মসৃণ বীজ। ফুল ও ফলের মৌসুম নভেম্বর থেকে জুন।
লেখক জানান, গাছটির কচি অংশ সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, আর লোকজ চিকিৎসায় এর মূল, বীজের তেল ও পাতার নানা ব্যবহারের কথা প্রচলিত আছে। এসব ব্যবহার চিকিৎসা হিসেবে পরীক্ষিত নয়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো রোগে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
হাওরের শুকনো মৌসুমে আপনা থেকে জন্মানো এমন লতা আর বুনো গাছ টাঙ্গুয়ারের জলাভূমি বাস্তুতন্ত্রের অংশ, যা হিজল-করচের বনের মতোই সংরক্ষণের দাবি রাখে।
ছবি: লতাফুটকির ফল, H. Zell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)