আজকের পত্রিকার উপসম্পাদকীয় পাতায় মৃত্যুঞ্জয় রায় জাতীয় বৃক্ষমেলা নিয়ে কয়েকটি নাগরিক প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তাঁর মূল কথা, মেলাটি এখন কার্যত নগরবাগানিদের মেলা হয়ে উঠেছে, তাই এর নাম, তথ্য রাখা ও দাম নির্ধারণের পদ্ধতিতে বদল দরকার।
লেখায় ইতিহাসও টানা হয়েছে: ১৯৯১ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়, আর সে বছর ১৩ আগস্ট গাজীপুরের শালনায় একটি মেহগনি রোপণ করে কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯৪ সালে বন বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষমেলা শুরু হয়, যা এখন প্রতিবছর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে হয়।
বন বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে লেখক জানান, গত মাসে শেষ হওয়া এবারের মেলায় ৭৪টি স্টল ও নার্সারি অংশ নেয় এবং ১৬ কোটি টাকার ১৬ লাখ চারা বিক্রি হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ বেশি। তবে তাঁর ধারণা, সঠিক জরিপ হলে দেখা যেত এর ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই বৃক্ষ নয়, ঘর সাজানো ও ছাদবাগানের গাছ; তাই বিক্রির হিসাবে কত শতাংশ বৃক্ষ, তা আলাদা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
নগর কৃষি ফাউন্ডেশন মেলায় প্রায় ২০০ দর্শনার্থীর ওপর একটি জরিপ চালায়। লেখায় বলা হয়েছে, তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশ ঢাকার বাসিন্দা, প্রায় ৬০ শতাংশ নারী, প্রায় সবারই ছাদ, বারান্দা বা ঘরে বাগান আছে, আর প্রায় ৯০ শতাংশ পছন্দের চারা পেয়ে সন্তুষ্ট। অনেকে অন্দরবাগান, গোলাপ-অর্কিড বা বাগানবিলাসের মতো আলাদা ছোট মেলার কথা বলেছেন।
দাম নিয়ে লেখক লিখেছেন, হিসাব অনুযায়ী গড়ে প্রতি চারা ১০০ টাকায় বিকিয়েছে, অথচ কিছু বিদেশি ফলের চারার দাম হাঁকা হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তাই সর্বজনগ্রাহ্য মূল্যতালিকা, গাছ ও জাতের নাম লেখা ট্যাগ, নগরবাগানিদের নিজেদের চারা বিক্রি ও বিনিময়ের জন্য আলাদা জায়গা এবং শিক্ষার্থীদের সফরের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
প্রতিবছর নির্ধারিত তারিখে মেলা করা এবং একই দিনে ৬৪ জেলায় বৃক্ষমেলার আয়োজনের কথাও বলেছেন লেখক, উদাহরণ দিয়েছেন ভারতের ১ থেকে ৭ জুলাইয়ের ‘বন মহোৎসব’-এর, যা ১৯৫০ সালে কে এম মুন্সি শুরু করেন। মতামতটি লেখকের নিজস্ব; সারাংশ দি এগ্রো নিউজের।
ছবি: জাহিদুল ইসলাম / আজকের পত্রিকা
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)