যুক্তরাজ্যের দুগ্ধ খামারিদের মধ্যে বাছুরকে খাওয়ানো শালদুধের (কোলস্ট্রাম) মান পরীক্ষা করার প্রবণতা বেড়েছে, কিন্তু বাছুর সেখান থেকে যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধী উপাদান (ইমিউনোগ্লোবুলিন) শরীরে নিতে পেরেছে কি না, সেই পরীক্ষা কমেছে। ইউকে ডেইরি ডেতে প্রকাশিত এমএসডি অ্যানিমেল হেলথের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৬ সালে জরিপে অংশ নেওয়া ১৪২ জন দুগ্ধ খামারির ৬৬.২ শতাংশ শালদুধের মান পরীক্ষা করেন; ২০২২ সালে ২৪৮ জন খামারির একই ধরনের জরিপে এই হার ছিল ৪৮.৮ শতাংশ। অথচ একই সময়ে বাছুরের শরীরে রোগ প্রতিরোধী উপাদান ঠিকমতো পৌঁছায়নি কি না, তা পরীক্ষা করা খামারির হার ৪১.১ শতাংশ থেকে নেমে ৩১.৭ শতাংশ হয়েছে।
জরিপ ও বিশ্লেষণে যুক্ত গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের খামার-প্রাণী ক্লিনিক্যাল বিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ড. কেটি ডেনহোম বলেন, শালদুধ পরীক্ষা বাড়াটা ইতিবাচক, তবে বাছুর যথেষ্ট ইমিউনোগ্লোবুলিন পেয়েছে ও শোষণ করেছে কি না, তা-ও জানা দরকার। তাঁর মতে, নিম্নমানের শালদুধ, জীবাণু দূষণ বা দেরিতে খাওয়ানো শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই বাছুরের পরীক্ষা দেখিয়ে দেয় খামারের ব্যবস্থাপনার কোথায় গলদ। তিনি খামারিদের পশু চিকিৎসকের সঙ্গে মিলে নিয়মিত এই মাত্রা পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন।
এমএসডি অ্যানিমেল হেলথের ভেটেরিনারি উপদেষ্টা ড. ক্যাট ব্যাক্সটার-স্মিথ নিয়মিত, সম্ভব হলে প্রতি মাসে বাছুরের রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, শালদুধের পরীক্ষা জানায় কী দেওয়া হলো, আর বাছুরের পরীক্ষা জানায় ফল কী হলো।
তাঁর মতে, গাভীকে টিকা দিয়ে বাছুরকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে শালদুধের ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাছুরের ডায়রিয়ার প্রধান জীবাণুর বিরুদ্ধে টিকা গাভীর শালদুধে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি বাড়ায়, যা শালদুধ ও পরবর্তী দুধের মাধ্যমে বাছুরে যায়। টিকার সুফল পেতে বাছুরকে সেই শালদুধ দ্রুত ও পরিচ্ছন্নভাবে খাওয়াতে হবে।
ছবি: এরিকা বিয়ুরস্ট্রম / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly




মন্তব্য
(০)