মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে ধান ও চালের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। চালের দাম কিছুটা কমায় ভোক্তারা স্বস্তি পেলেও ধানের দর কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা, কারণ উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রিমূল্য কম।
ব্যবসায়ীদের মতে, চাহিদা কমে যাওয়া, চালের মজুত বৃদ্ধি ও বেচাকেনায় স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে দামে। বিভিন্ন বাজারে ধান কেনাবেচায় ধীরগতি দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে চালের দামও কিছুটা কমেছে।
কমলগঞ্জের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, 'বাজারে দাম কমে গেলে কিছু করার থাকে না। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কয়েক দিন পরে ভালো দামে বিক্রি করা যেত।' মৌলভীবাজারের আমনচাষি আব্দুল হালিম বলেন, ফলন ভালো হলেও যে দাম মিলছে তাতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও সে অনুপাতে ধানের দাম মিলছে না।
শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারের এক চাল ব্যবসায়ী জানান, চাহিদা কম থাকায় পাইকারিতে চালের দাম কিছুটা কমেছে। মৌলভীবাজার শহরের এক আড়তদার বলেন, মজুত থাকায় চালের দাম নেমেছে, তবে ধানের দর কমায় কৃষকেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কৃষকের স্বার্থে বাজারব্যবস্থা আরও কার্যকর করা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কৃষক ও বাজারসংশ্লিষ্টরা নিয়মিত বাজার তদারকি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ন্যায্যমূল্য এবং সরকারি ধান সংগ্রহ আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন; দাম দীর্ঘদিন কম থাকলে আগামী মৌসুমে আবাদে আগ্রহ কমতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)