ভারতের পুনে শহরে বিক্রি হওয়া স্বাদুপানির মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে এমআইটি ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটির (এমআইটি-ডব্লিউপিইউ) চলমান এক পিএইচডি গবেষণায়, জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম। পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের গবেষক সিমরান সিং, ড. সোমা মিশ্রের তত্ত্বাবধানে, বাজারে প্রচলিত মাছ, বিশেষ করে রুই ও তেলাপিয়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, ধরন ও উৎস খুঁজছেন।
গবেষকেরা প্রথমে শহরের মাছ সরবরাহ ব্যবস্থার মানচিত্র তৈরি করেন; চারটি অঞ্চলের ২৬ জন পাইকার ও পরিবেশকের সাক্ষাৎকার নেন। তাঁদের হিসাবে প্রতিদিন পুনের বাজারে ৩৭-৪০ টন স্বাদুপানির মাছ আসে, যার বড় অংশ চাষের মাছ, আসে অন্ধ্র প্রদেশ, গুজরাট, রত্নাগিরি, মুম্বাই ও কলকাতা থেকে।
পরীক্ষাগারে নমুনায় প্লাস্টিকের আঁশ, টুকরা ও দানা মিলেছে। পাওয়া মাত্রা ও স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস ধরে হিসাব করা হয়েছে, সপ্তাহে দুবার ২৫০ গ্রাম করে স্বাদুপানির মাছ খেলে ৫০ বছরে একজন মানুষ ৯৩,৬০০ থেকে ১,২৪,৮০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন। তবে গবেষকেরা জোর দিয়ে বলছেন, কণার সংখ্যা দিয়ে সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝা যায় না; তা নির্ভর করে কণার আকার, প্লাস্টিকের ধরন ও সঙ্গে লেগে থাকা দূষকের ওপর। পরিমাণগত বিশ্লেষণ ও প্লাস্টিকের ধরন শনাক্তের কাজ এখনো চলছে।
সিমরান সিং বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আলোচনা বেশির ভাগই সমুদ্রকেন্দ্রিক, অথচ স্থানীয় মানুষের মাছের বড় উৎস হলেও স্বাদুপানির জলাশয় ও পুনের মতো অভ্যন্তরীণ শহর নিয়ে গবেষণা কম। গবেষণাটির লক্ষ্য প্লাস্টিক ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনা, জলাশয় সংরক্ষণ ও খাদ্য নিরাপত্তায় ভিত্তি তথ্য তৈরি করা।
ছবি: Khalid Mahmood / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgroSpectrum





মন্তব্য
(০)